নজর২৪, ঢাকা- রাজধানীর গুলশানে কলেজছাত্রী মুনিয়ার মৃত্যু ও বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে দেশের মিডিয়া একপেশে আচরণ করছে উল্লেখ্য করে আলোচিত আইনজীবী ও যুবলীগ নেতা ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে হাইকোর্ট চত্ত্বরে রেকর্ড করা এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেন তিনি।
ভিডিওতে ব্যারিস্টার সুমন দেশের গণমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আজকে মামুনুল সাহেবের বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ ছিল, আপনারা নিয়ে এসেছেন। আনেন। কিন্তু বসুন্ধরার কথা বলেন না কেন? বসুন্ধরা নিয়ে এত ঝামেলা কেন?
তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন, আজকে আমি একটা অপরাধ করলে আপনার ফলাও করে প্রচার করে বলবেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক অমুক অপরাধ করেছে, ব্যারিস্টার সুমন অমুক অপরাধ করেছে। কিন্তু বসুন্ধরাকে আপনারা এভাবে ছাড় দিচ্ছেন কেন?
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ডসহ অন্যান্য সংগঠনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কোটার দাবিতে রাস্তায় নামতে পারেন। এখন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এমন ঘটনার শিকার, আপনাদের কাউকে দেখলাম না একটা মানববন্ধন কিংবা প্রতিবাদ করতে।
ব্যারিস্টার সুমন বলেন, বসুন্ধরার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো শেষ নাই। তাদেরকে ২/৩ টা মার্ডারের অনুমোদন কেউ দেয়নি। জানা অভিযোগ মাত্র কয়েকটা। কত অভিযোগ যে সামনে আসেনি তা কেউ জানে না।
তিনি বলেন, মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাটা হত্যা মামলা হওয়া উচিৎ ছিল। আত্মহত্যার প্ররোচনা নামে কোনো মামলা হতে পারে না। আমি বাবা-মা হারা এই মেয়েটির পাশে দাঁড়াতে চাই। আমার চেয়ে ভালো আইনজীবী না পেলে আমি এই মামলা লড়তে চাই।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমি আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটাই আবেদন রাখবো, নেত্রী আপনি তো শক্তিশালী যুদ্ধাপরাধীদেরও ৩০/৩৫ বছর পরে হলেও বিচারের মুখোমুখি করেছেন। তাই আমার বিশ্বাস জনগণের যে প্রত্যাশা আপনার ওপর, বসুন্ধরা হোক বা যে শিল্প প্রতষ্ঠানই হোক না কেন, তাদের যে কোনও ধরনের অপরাধ আপনি যতদিন নেতা হিসেবে থাকবেন নিশ্চই তাদের বিচার এই মাটিতে হবে। সুষ্ঠ বিচার হবে এবং জনগণের সামনে এটা প্রমাণিত হবে যে আপনি কোনোকিছুতেই পিছপা হননি। সে যেই হোক না কেন।’
একইসঙ্গে ওই মৃত্যুর ঘটনায় দল-মত নির্বিশেষে এই মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া, বিভিন্ন মিডিয়ায় মুনিয়া ভিকটিম হওয়া সত্ত্বেও তার ছবি প্রকাশ করা হলেও আসামির ছবি প্রকাশ না করায় নিন্দা জানান সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাটে থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সায়েম সোবহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। মাসে এক লাখ টাকা ভাড়ার ওই ফ্ল্যাটে মুনিয়াকে রেখেছিল সায়েম সোবহান। সে নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতো। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো করে থাকতো।
মুনিয়ার বোন অভিযোগ করেছেন, তার বোনকে বিয়ের কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল আনভীর। একটি ছবি ফেসবুকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সায়েম সোবহান তার বোনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের মনে হচ্ছে, মুনিয়া আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এর বিচার চান তারা।
তিনি বলেন, মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাটা হত্যা মামলা হওয়া উচিৎ ছিল। আত্মহত্যার প্ররোচনা নামে কোনো মামলা হতে পারে না। আমি বাবা-মা হারা এই মেয়েটির পাশে দাঁড়াতে চাই। আমার চেয়ে ভালো আইনজীবী না পেলে আমি এই মামলা লড়তে চাই।
