১৪ এপ্রিল থেকে চলবে না যানবাহন, বন্ধ থাকবে সব গার্মেন্টস কারখানা

নজর২৪, ঢাকা- করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে এবার কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে সরকার। প্রথম দফায় আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সাতদিনের জন্য এই লকডাউন দেয়া হবে। এ সময়ে জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে সব ধরণের যানবাহন, গার্মেন্টস কারখানা।

 

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

 

তিনি জানান, লকডাউন চলাকালে কোনোভাবেই মানুষকে ঘরের বাইরে আসতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে রোববার (১১ এপ্রিল) প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

 

এর আগে সকালে সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে করোনাভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। কিন্তু এতেও কমেনি জনগণের উদাসীনতা। এ অবস্থায় জনস্বার্থে সরকার আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের বিষয়ে সক্রিয় চিন্তা ভাবনা করছে।

 

১৪ এপ্রিল থেকে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ দেওয়া হবে— সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে এমন কথা বলেছেন শুক্রবার সকালে। এই লকডাউন কেমন হতে পারে— জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, অত্যন্ত কঠোরভাবে লকডাউন হবে। শুধু জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধ। সবাই যেন ঘরে থাকে, সবাই যেন লকডাউন পালন করতে সহায়তা করে, সেটি দেখা হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছি ২৯ মার্চ থেকে। ওই দিন ১৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। আমরা বেশকিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছিলাম। এরপর ৪ এপ্রিল আরও কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আমরা দিয়েছি। আমাদের একটি লক্ষ্য ছিল জনমত তৈরি করা, জনসচেতনতা তৈরি করা। আমরা সেটি করেছি। মানুষ মোটামুটি প্রস্তুত হতে পেরেছে। এখন খুব দ্রুত আমাদের কঠোর লকডাউনে যেতে হবে।

 

তিনি বলেন, আমাদের হাতে আরও কয়েকদিন সময় আছে। এই কয়েকদিনের মধ্যে বাকি প্রস্তুতি নিয়ে নেওয়া হবে। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর লকডাউন চলবে, যে সময়ে সবাই ঘরে থাকবে। কেবল জরুরি সেবা চলবে। কাউকে খুব জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

 

পোশাক খাতসহ অন্যান্য শিল্প কারখানা এই লকডাউনে চালু থাকবে কি না— জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের চিন্তাভাবনা হলো কমপ্লিট লকডাউন। সবাইকে লকডাউনে থাকতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

 

গত বছর সাধারণ ছুটি ঘোষণার সময় জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী টহল দিয়েছে সারাদেশে। এবারেও সেনাবাহিনী টহল দেবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যেটি করলে ভালো হবে, সেটি বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা পরবর্তী সময়ে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষ বুঝতে পেরেছে— করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণ কমাতে হলে লকডাউন প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সবাইও এই পরামর্শই দিয়েছেন। সবার চিন্তাভাবনা-পরামর্শ বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *