নজর২৪, চট্রগ্রাম- চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে পাঁচলাইশের ট্রিটমেন্ট হাসপাতালের নিজ চেম্বার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, ডা. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া সোমবার বিকেলে নগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায়ও ডা. শাহাদাত যুক্ত রয়েছেন।
তবে ডা. শাহাদাত হোসেনকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা জানাননি পুলিশের এই কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তারের পর শাহাদাতকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। গত জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন ডা. শাহাদাত। পরে নির্বাচন কমিশনার এবং বর্তমান মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন তিনি।
শাহাদাতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাটি ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেছেন নগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, ‘যিনি মানুষকে বিনা টাকায় চিকিৎসা করেন, সাহায্য করেন, তিনি চাঁদাবাজি করবেন, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সব পুলিশের ষড়যন্ত্র। আন্দোলন দমিয়ে রাখতে সব করছে পুলিশ।’
এর আগে বিকেলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগর বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে কোতোয়ালি থানার ওসিসহ পুলিশের ছয়জন সদস্য এবং বিএনপির নেতা-কর্মীসহ ২১ জন আহত হন। এসময়য় নগর মহিলা দলের সভানেত্রীসহ ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক ঘণ্টাখানেক বন্ধ থাকে।
সিএমপির সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) নোবেল চাকমা বলেন, ‘আজ সংঘর্ষের পর শাহাদাত হোসেনসহ ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি ও ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুরের ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশ বাদি হয়ে অপর একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলা হলেই তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।’
গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ডা. শাহাদাত গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি পালন করতে বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ বিনা উস্কানিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।’
