প্রেম ও শুভকামনা নিয়ে এসেছি: মোদি

নজর২৪, গোপালগঞ্জ- পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের এগিয়ে চলার কথা বলে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত ও বাংলা উভয়ই নিজেদের বিকাশ ও প্রগতির চেয়ে সারা বিশ্বের বিকাশ ও প্রগতি চায়।

 

তিনি বলেন, দুদেশই বিশ্বে অস্থিরতা ও স-ন্ত্রা-সের পরিবর্তে শান্তি চায়। ভারত ও বাংলাদেশের একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা উচিত। এটা আমাদের কর্তব্য। আমি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে ভারতের ১৩০ কোটি ভাইবোনের পক্ষ থেকে প্রেম ও শুভকামনা নিয়ে এসেছি।

 

শনিবার (২৭ মার্চ) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

 

ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িতে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে মোদি বলেন, ‘শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের দয়ায় আজ এই পবিত্র ভূমিতে আসতে পেরেছি। আমি হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের চরণে মস্তক নত করে প্রণাম জানাই। এখানে আসার পর কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বিশ্বাস করতে পারেননি যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এখানে আসতে পারেন। কিন্তু আমি ওড়াকান্দি আসতে পেরে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। ভারত থেকে আসা দর্শনার্থীরা যেরকম শান্তি অনুভব করেন, আমিও তেমনি অনুভব করছি।’

 

তিনি বলেন, ‘এখানে আসার ইচ্ছা আমার অনেক আগে থেকেই ছিল। ২০১৫ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে যখন বাংলাদেশে আসি, তখনই আমি ওড়াকান্দি আসতে চেয়েছিলাম। এখানে এসে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুর নগরের বড় মাও আমাকে এরকম স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়েছেন। ঠাকুর নগর থেকে ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত একই ধরনের শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে।’

 

এ সময় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘এখানে আসার আগে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে গিয়েছি। সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব, উনার ভিশন (লক্ষ্য) ও মানুষের প্রতি তার বিশ্বাস উদাহরণস্বরূপ।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবে ভারত-বাংলাদেশের সরকার দুই দেশের স্বাভাবিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করছে, সাংস্কৃতিকভাবে এই কাজই ঠাকুর বাড়ি ও শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের বার্তা বহু বছর ধরে করে আসছে। একভাবে এই স্থান ভারত-বাংলোদেশের আত্মিক সম্পর্কের তীর্থ ক্ষেত্র। আমাদের সম্পর্ক মানুষের সঙ্গে মানুষের, মনের সঙ্গে মনের।’

 

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ভারত ও বাংলা উভয়ই নিজেদের বিকাশ ও প্রগতির চেয়ে সারা বিশ্বের বিকাশ ও প্রগতি চায়। দুই দেশই বিশ্বে অস্থিরতা ও সন্ত্রাসের পরিবর্তে শান্তি চায়। ভারত ও বাংলাদেশের একসঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা উচিত। এটা আমাদের কর্তব্য। ভারত আজ সবার সঙ্গে, সবার বিকাশ, সবার বিশ্বাস—এ মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখানে সহযাত্রী। বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে বিকাশ ও পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। এখানে ভারত আপনাদের সহযাত্রী।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *