ঢাকা    ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘কালই আমি মার্ডার হয়ে যেতে পারতাম’, গুলশান থানায় ওমর সানীর জিডি

প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২১

‘কালই আমি মার্ডার হয়ে যেতে পারতাম’, গুলশান থানায় ওমর সানীর জিডি

বিনোদন ডেস্ক- নিজ জীবন শঙ্কায় থানায় জিডি করেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। তাঁর অভিযোগ, প্রযোজক ইকবাল হোসেন তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন।

 

গতরাতে নাশতা নিয়ে ফিল্ম ক্লাবের কর্মচারীর সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা শুরু করেন প্রযোজক ইকবাল হোসেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি নায়ক ওমর সানীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এই ঘটনায় শঙ্কিত হয়ে ওমর সানী প্রত্যক্ষদর্শীদের স্বাক্ষর নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

 

গত রাতের পর থেকে এখনো আতঙ্কে আছেন এই নায়ক। তিনি মনে করছেন, যেকোনো সময় তাঁর সঙ্গে খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে। তিনি শিগগির প্রযোজক ইকবালের গ্রেপ্তার চান। তবে ইকবালের দাবি, তাঁর নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে জিডি করেছেন ওমর সানী।

 

গতকাল রাতে ওমর সানী গুলশান থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান। তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতে ওমর সানী থানায় এসেছিলেন। তাঁদের ফিল্ম ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে কোনো ঝামেলা হয়েছে। সেটা নিয়েই তিনি ডায়েরি করেছেন। আমরা বিষয়টা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

 

জিডি নম্বর ১৪০৬। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব লিমিটেডে রাত ১০ ঘটিকায় ক্লাব সদস্য ইকবাল হোসেন জয় (আজীবন সদস্য নম্বর-১৬৩) সামান্য নাশতাকে কেন্দ্র করে এক কর্মচারীর সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা শুরু করে ক্লাবের সভাপতি ওমর সানীকে গালাগাল ও জীবন নাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

 

ওমর সানী জানান, তখন রাত পৌনে ১০টা। ৭/৮ জনকে নিয়ে একটি রুমে বসে ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফিল্ম ক্লাবের সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট ও কেবিনেটের সদস্যরা। এমন সময় প্রযোজক ইকবাল ঢুকে ক্লাবে খাবার না থাকায় ক্লাব নিয়ে নানা রকম বাজে কথা বলতে থাকেন।

 

জানা যায়, ক্লাবে রাত ৯টার পরে খাবার প্রস্তুত থাকে না। কেউ খেতে চাইলে তাঁকে অর্ডার দিয়ে খেতে হবে। তখন ইকবাল দুইটা ডিম চান। ক্লাবের কর্মচারী ডিমের টাকা চান। টাকা চাওয়ায় ইকবাল ছেলেটির ওপর রেগে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে প্রযোজক ঢালিউড নায়ককে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এমনটাও বলেন, ক্লাব বন্ধ করে দেবেন।

 

ওমর সানী বলেন, ‘সেই ছেলেটিকে আমি তখনই বলি, তুমি সঙ্গে সঙ্গে টাকা চাইলা কেন? তিনি একজন সম্মানিত সাবেক সেক্রেটারি। তখন সে (ইকবাল) আমাকে বলে, “এরা তোর ইশারায় চলে।” একপর্যায়ে সে আমার মাকে তুলে যা তা বলে গালিগালাজ করেন। আমি তাকে কাউন্টারে কিছু বলি নাই। তখন ক্লাবে থাকা সবাই উপস্থিত ছিলেন। সে কাঁটাচামচ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনবার আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করেছে। তাকে সবাই ফিরিয়েছে, নইলে কালই আমি মার্ডার হয়ে যেতে পারতাম। আমি এখনো শঙ্কিত। সে যেকোনো মুহূর্তে আমার ক্ষতি করে দিতে পারে। এই জন্য বাধ্য হয়ে আমি রাতেই জিডি করেছি।’

 

পরে রাত ১১টার সময় মিটিং ডেকে তাঁরা ফিল্ম ক্লাবের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে ইকবালকে প্রাথমিক ভাবে ছয় মাসের জন্য তার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। ওমর সানি জানান, তিনি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

 

অন্যদিকে ফেসবুকে লাইভে এসে সদ্য নির্বাচিত সভাপতি ওমর সানীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন প্রযোজক ইকবাল। তিনি বলেন, ‘২২ দিনে আপ্যায়ন খরচ ২ লাখ ২১ হাজার টাকা। চা-বিস্কুট বাবদ এই খরচ হয়েছে! কোনো অতিথি গেলে এত টাকা খরচ হয়? এ বিষয় নিয়ে ক্লাবে গালাগাল করেছি। আমি কোনো ব্যক্তিকে গালাগাল করিনি। কিন্তু উনি (ওমর সানি) গায়ে নিয়েছেন। আমি নিজেই বলেছি- আমাকে বহিষ্কার করুন। এই অনিয়মের মধ্যে আমি থাকতে চাই না। আমি কাউকে হুমকি দেইনি।’

 

এই ঘটনায় রাজধানীর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি ওমর সানি। তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন। এ বিষয়ে ইকবাল ফেসবুকে আরেক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ওমর সানী তার জিডিতে যা উল্লেখ করেছেন তা মিথ্যা ভিত্তিহীন।