নজর২৪, ঢাকা- অস্ত্র আইনের মামলা থেকে অব্যাহতির পর এবার মাদকের মামলা থেকেও অব্যাহতি পেয়েছেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড (বরখাস্ত) কাউন্সিলর ইরফান সেলিম।
এ মামলায় পুলিশের দেয়া অব্যাহতির সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সোমবার (০১ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহীনুর রহমান এই আদেশ দেন।
গত ৪ জানুয়ারি মাদক ও অস্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন৷ তাই এ দু’টি মামলা থেকে তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
এরপর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মহানগর দায়রা কেএম ইমরুল কায়েশ পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে তাকে অস্ত্র মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন। সোমবারের আদেশের মাধ্যমে তিনি অস্ত্র ও মাদক দু’টি মামলা থেকেই অব্যাহতি পেলেন।
এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজাতেও তিনি জামিন পান। এখন শুধু নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের একটি মামলাই রইল ইরফানের বিরুদ্ধে৷ সেই মামলায় এরই মধ্যে অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়েছে।
গত বছরের ২৫ অক্টোবর নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের গাড়ি তাকে ধাক্কা মারে। এরপর তিনি সড়কের পাশে মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান এবং নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে নেমে ইরফান সেলিম ও তার সঙ্গে থাকা অন্যরা তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং হত্যার হুমকি দেন। তার স্ত্রীকেও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন অভিযুক্তরা।
পরদিন (২৬ অক্টোবর) সকালে ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী মো. জাহিদুল মোল্লা, এ বি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ওয়াসিফ আহমদ খান। ওই দিনই পুরান ঢাকার বড় কাটরায় ইরফানের বাবা হাজী সেলিমের বাড়িতে দিনভর অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে ইরফান সেলিমকে এক বছর কারাদণ্ড দেন। ইরফানের দেহরক্ষী মো. জাহিদকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে দেন ছয় মাসের সাজা।
