ঢাকার পাঁচ হাসপাতালে কোভিড-১৯: টিকাদান শুরু

নজর২৪ ডেস্ক: বুধবার কোভিড-১৯ টিকা প্রদানের উদ্বোধনী দিনে ২৬ জনকে দেওয়ার পর ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার।

 

টিকা প্রয়োগ করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চারটি এবং কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে একটি বুথ করা হয়েছে।

 

সকাল ৯টা থেকে এসব হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর টিকার প্রয়োগ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম। “এই পাঁচটি হাসপাতালে ৫০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে আমাদের।”

 

বৃহস্পতিবার ৯টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বুথে প্রথম টিকা নেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

 

পরে বেলা পৌনে ১১টার দিকে টিকা নেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনিই দেশের প্রথম সংসদ সদস্য এবং সরকারের প্রতিমন্ত্রী, যিনি টিকা পেলেন।

 

এছাড়া সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নানও এই কেন্দ্রে টিকা নিয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চারটি বুথে মোট ১৩৯ জন টিকা নেন।

 

বেলা ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে’ টিকা দেওয়া হচ্ছে। ‘অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ’ টিকা নিচ্ছেন।

 

“একটা আনন্দঘন পরিবেশে টিকা দেওয়া কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনেকেই টিকা নিয়েছেন, অনেকেই এসেছেন। যে পরিবেশ, মনে হল যে ঈদের ভাব। যেভাবে ঈদ হয়, সেরকম আনন্দমুখর পরিবেশে টিকা নেওয়া হচ্ছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে।” এখন পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন, তারা সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন এবং কারও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা শোনেননি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বুধবার বিকালে বহু প্রতীক্ষিত টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় বাংলাদেশে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং প্রথম পাঁচজনকে টিকা দেওয়া দেখেন। প্রথম দিন সব মিলিয়ে মোট ২৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

 

বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা, যা ‘নিরাপদ এবং অধিকাংশের ক্ষেত্রে কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারে’ বলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে। আট সপ্তাহের ব্যবধানে এ টিকার দুটি ডোজ নিতে হবে সবাইকে।

 

বাংলাদেশে যেহেতু এ টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়নি, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী প্রথম দফায় ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির উপর এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন।

 

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তারা ১০০ জন কর্মীকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। “টিকাদানের জন্য মোট চারটি বুথ থাকবে। আলাদা একটি ওয়ার্ড করা হয়েছে, কারও প্রয়োজন হলে ব্যবহার করবে।”

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. জুলফিকার আহমেদ আমিন জানিয়েছেন, এখন তারা নিজেদের কর্মীদের টিকা দিচ্ছেন। পরে নির্ধারিত তারিখে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ নাগরিকদের টিকাদান শুরু হবে।

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার কাদের টিকা দেওয়া হবে, সেই তালিকা তারা আগেই করে রেখেছিলেন।

 

“আমাদের পরিকল্পনা আছে যে, আমরা প্রথম দিন ১০০ জনকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেব। হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, আনসার সদস্য, ট্রেইনি চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য স্টাফ যারা আছেন- সব ক্যাটাগরির স্টাফদেরই আমরা ভ্যাকসিন দেব।”

 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিচতলার উন্মুক্ত স্থানে টিকাদানের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে। সেখানে শুরুতে নারীদের জন্য দুটি এবং পুরুষদের জন্য দুটি বুথ থাকবে। পরে বুথ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *