নজর২৪, বরিশাল: নির্বাচনী সহিংসতায় বরিশালে মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আফসার সিকদারের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
আফসার সিকদার মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পেশায় মোটর সাইকেল মেকানিক ছিলেন।
জানা গেছে, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাকি কাওছার ওরফে নিপ্পন তালুকদার। তার প্রতীক উটপাখি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুল হক জোমাদ্দার। তার প্রতীক পাঞ্জাবি। এ দুই প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনের আগে থেকেই বিরোধ চলছিল।
কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল ইসলাম জমাদ্দার জানান, আফসার সিকদার ওয়ার্ডে আমার হয়ে নির্বাচনী কাজ করতেন এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী কামাল উদ্দিনের কর্মী ছিলেন। গত নির্বাচনেও তিনি আমার কর্মী হয়ে কাজ করেছেন। যা প্রতিপক্ষরা মেনে নিতে পারেনি।
তিনি বলেন, আমার কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান ফয়েজ রোববার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে আমার বাসা থেকে নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশে বের হয়ে যান। পথিমধ্যে তিনি মেহেন্দিগঞ্জ পৌর এলাকার আরসি কলেজের সামনে একটি সেলুনে যান। এ সময়ে নিপ্পন তালুকদার ও তার সহযোগী রাকিব পোদ্দার এসে ফয়েজের ওপর হামলা করেন। ফয়েজ বিষয়টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আফসারকে জানান।
এর কিছুক্ষণ পর আফসার ঘটনাস্থলে পৌঁছানো মাত্রই রাকিব ও নিপ্পন তাকেও মারধর করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আফসারকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে শেবাচিম হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে সকাল ৯টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মরদেহ দাফনের পর মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান নুরুল।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আফসার সিকদার নিহতের ঘটনায় এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রয়েছে। সম্পূর্ণ সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য পুলিশ সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
