নজর২৪ ডেস্ক- চাকরির দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানসহ দুই উপ-উপাচার্য ও প্রক্টরকে উপাচার্যের বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতা-কর্মীরা।
সোমবার (১১ জানুয়ারি) রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উপাচার্যসহ ওই চারজনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন তারা।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সুপারিশ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ভেতরেই সোমবার অফিস চলাকালে জালাল নামে একজনকে সেকশন অফিসার পদে অ্যাডহকে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি জানতে পেরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনে সামনে অবস্থান নেয় চাকরি প্রত্যাশী ২০-২৫ জন সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। এসময় উপাচার্যের বাসভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সেখানে আধাঘন্টা অবস্থানের পর শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ছয়জনের একটি দল উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন। উপাচার্য তাদের চাকরি নিশ্চিতের বিষয়ে আশ্বস্ত না করলে বাইরে এসে তারা উপাচার্যের ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। বর্তমানে প্রায় ৩০ চাকরি প্রত্যাশী উপাচার্যের বাসভবনের সামনেই অবস্থান করছেন।
জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি সব ধরনের নিয়োগ বাতিল রাখার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আজ এডহকে একজনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের কেন চাকরি হচ্ছে না। সেটি জানতেই নেতা-কর্মীরা গিয়েছিলেন।’
তবে, ফটকে তালা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান ছাত্রলীগের কেউ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে প্রতিবন্ধী একটি ছেলেকে চাকরি দেওয়ার জন্য। যেহেতু নিয়োগ বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালনের নির্দেশনা রয়েছে, তাই আমি সচিবকে জানিয়েছি। তিনি আমাকে নিয়োগ দিতে বলেছেন এবং আমি নিয়োগ দিয়েছি।
উপাচার্য বলেন, এরই পরিপ্রেক্ষিতে সন্ধ্যার দিকে ছাত্রলীগ নেতারা এসে চাকরি দাবি করে। আমি জানিয়েছি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন আমি নিয়োগ দিতে পারব না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান জানান, বাসভবনের মধ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং কয়েকজন সহকারী প্রক্টরসহ তিনি নিজেও অবরুদ্ধ আছেন।
তিনি বলেন, মূলত করোনার আগে বেশ কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছিল। করোনার কারণে সেগুলোর নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা যায়নি। অনেক চাকরিপ্রত্যাশী আছেন, কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে উপাচার্য স্যার কিছু করতে পারবেন না। একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি যেন তৈরি হয়, সেজন্য আমরা আছি।
তালা ঝুলানোর পর থেকে সোমবার দিবাগত রাত ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন ছাত্রলীগ নেতারা। এসময় প্রায় ৩০ জন চাকরিপ্রত্যাশীকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
