নজর২৪ ডেস্ক- সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, চারিদিকে বারুদের গন্ধ, অস্ত্র তাক করে রেখেছে, আমাকে মেরে ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, ‘যে যে দল করেন, শেখ হাসিনাকে অপছন্দ করেন, আওয়ামী লীগকেও অপছন্দ করেন সমস্যা নেই, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করবেন, না হলে আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে বিশ্বে দরবারে পরিচিতি পাব।’
শুক্রবার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচনী পথসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি দলীয় নেতাদের নানা অনিয়ম নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আলোচিত হয়েছেন তিনি।
বসুরহাট পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এই মেয়র প্রার্থী প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, ‘গত নির্বাচনে শেখ হাসিনা প্রশাসনের লোকজনের কাছে ফল চেয়েছেন। অতি উৎসাহী প্রশাসনের লোকজন গাছসহ নেত্রীকে দিয়েছেন। এতে নেত্রীর ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন বেশি উড়তেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভাতের অধিকার নিশ্চিত করেছেন, কিন্তু ভোটের অধিকার এখনও নিশ্চিত হয়নি। আমি নেত্রীকে অনুরোধ করব, আপনি সিদ্ধান্ত নিন, মাদক ও নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা জড়িত থাকতে পারবে না। নেত্রীকে বলব, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করুন।’
তিনি বলেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ বিএনপি জামায়াতের পোস্টারে হাত দেবেন না। দিলে হাত ভেঙ্গে দিব। আমার পোস্টার মাইজদী ফেনী থেকে কিছু লোক লাগিয়ে ছিঁড়ে দেয়া হচ্ছে। বিএনপি জামায়াত আমার পোস্টার ছেঁড়েনি। তাদের কারো পোস্টার ছিঁড়বেন না।
দলীয় কোন্দলের বিষয়ে তিনি বলেন, চারিদিকে বারুদের গন্ধ। আমাকে মেরে ফেললে কবর দিয়ে আসবেন।
আবদুল কাদের মির্জা আরো বলেন, নোয়াখালীর রাজনীতি পদ্ধতি আমার অনুভূতিতে আঘাত করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতির ব্যাপারে আমার বক্তব্য নেই। সাংবাদিক ভাইয়েরাও এখন অনেক কিছু লেখা বন্ধ করে দিয়েছে। তারাও বিপদে রয়েছেন। আমাকে বহিষ্কারের কথা বলা হয়। মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমার কবর ঠিক করা আছে। আমি ঠিক করে রেখেছি। হাশরের ময়দানে তাদের সাথে বসব।
তিনি জনগণের লক্ষ্যে বলেন, ওবায়েদুল কাদের সাহেব যথেষ্ট কাজ করেছেন। এসব কাজ ওবায়দুল কাদের করেছেন। এই কোম্পানীগঞ্জে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ কালভাট, স্কুল কলেজ, মসজিদ-মন্দির এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। পৌরসভায় তার কারণে কাজগুলো হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জে গ্যাস সংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, যাদের গ্যাস নেই তারা তিন মাসের মধ্যে গ্যাস পাবেন। অন্যথায় কোম্পানীগঞ্জের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়া বন্ধ করবো। আপনাদের নিয়ে রাস্তায় নামবো। সোজা আঙ্গুলে ঘি ওঠে না। এছাড়াও এলাকায় সালিশ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। আমি সালিশ কমিটি করব।
কাদের মির্জা বলেন, আমি আবারও বলছি, বৃহত্তর নোয়াখালীতে সুষ্ঠু নির্বাচনে হলে আওয়ামী লীগ ৩-৪টি আসন পাবে। বাকী আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা হেরে যাবে, পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।’
