বেরোবিতে জাতীয় পতাকা অবমাননার তদন্তে ১৯ জনের নাম

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: মহান বিজয় দিবসে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) জাতীয় পতাকা বিকৃত করে অবমাননার ঘটনার সত্যতা পেয়েছে রংপুর জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।

 

প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ পতাকা অবমাননার দায়ে ১৯ জনের নাম তালিকভুক্ত করা হয়েছে বুধবার রংপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনটিতে।

 

তদন্ত প্রতিবেদনে তালিকাভুক্ত ১৯ জন হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক আর এম হাফিজুর রহমান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহাকারি অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক পরিমল চন্দ্র বর্মণ, মার্কেটিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মাসুদ উল হাসান, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রাম প্রসাদ বর্মণ।

 

পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রশিদুল ইসলাম, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শামীম হোসেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক রহমতউল্লাহ, রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মোস্তফা কাইয়ুম শারাফাত, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ব বিভাগের প্রভাষক সোহাগ আলী, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আবু সায়েদ।

 

তদন্ত প্রতিবেদনের সার্বিক মন্তব্যে বলা হয়- ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) এর ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্বাধীনতা চত্বরে জাতীয় পতাকার নকশা পরিবর্তন করে সবুজের ভিতর লাল বৃত্তের পরিবর্তে চারকোনা আকৃতির বিকৃত পতাকা দিয়ে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্তৃক ছবি তোলার সত্যতা পাওয়া গেছে, যা জাতীয় পতাকা অবমাননার শামিল এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ এর বিধি ৩ এর পরিপন্থী।

 

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুজ্জামান, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সদরুল ইসলাম সরকার, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক প্রদীপ কুমার সরকার, পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহ জামান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোরশেদ হোসেন, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক চার্লস ডারউন, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুর আলম সিদ্দিক, এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সেকশন অফিসার (গ্রেড-১) শুভঙ্কর প্রমুখ।

 

এর আগে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষকসহ উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষক ও একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তাজহাট থানায় দুটি এজাহার দায়ের করেন। গত ২০ ডিসেম্বর (রোববার) রংপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শওকত আলী এ দুটি অভিযোগ তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

এদিকে ২৮ ডিসেম্বর (সোমবার) পতাকা বিকৃতি ও অবমাননার ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা করেছেন রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তাজহাট মেট্টোপলিটন আমলি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফজলে এলাহী বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

প্রসঙ্গত, মহান বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকার নকশার বিকৃতি করে নিজেদের মতো করে তৈরি করা জাতীয় পতাকা নিয়ে ক্যাম্পাসে ছবি তোলেন বর্তমান প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শিক্ষক। এছাড়া জাতীয় পতাকা পায়ের নিচে লাগিয়ে ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। অল্প সময়ে ছবিগুলো ভাইরাল হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *