‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় সন্দেহ, তিনি বাংলাদেশ না ভারতের মন্ত্রী’

নজর২৪, ঢাকা- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কিংবা ভারত সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করে বাংলাদেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা শুনলে সন্দেহ হয়, তিনি কি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি ভারতের পররাষ্টমন্ত্রী?

 

সোমবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সীমান্তে ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সব কথা বলেন।

 

বিএনপির মহাসচিব বলেন, “আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বারবার বলে ভারতকে বিব্রত করতে চাই না। ভারতের সঙ্গে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের কথা বলে এই চমৎকার সম্পর্ক নষ্ট করতে চাই না।’ সীমান্তে ভারতীয় বাহিনী আত্নরক্ষার্থে গুলি করে”- বলেও আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

 

বিএনপি নেতা ফখরুলের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে বিনা বিচারে বাংলাদেশিরা নিহত হচ্ছেন। ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫১০ জন এবং ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এভাবে প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করাটা জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর হাতে বাংলাদেশের নাগরিকদের নির্বিচার হত্যার প্রতিবাদে আজকে আমরা কালো ব্যাজ ধারন করেছি। এটা আমাদের একটা প্রতিবাদ। সেই অনুযায়ী আমিও আজকে এই সংবাদ সম্মেলন আপনাদের সামনে কালো পোশাক পরিধান ও কালো ব্যাজ ধারণ করেছি। আমরা এর অবসান চাই। সরকার অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটা আমাদের দাবি।

 

‘আমাদের বক্তব্যটা ভারতের কোনো সরকার বা জনগণের বিরুদ্ধে নয়। আমার দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়ে বক্তব্য, তাদের জীবনের প্রশ্নে আমাদের বক্তব্য। এটা সবাই করছেন, দীর্ঘকাল ধরে করছেন। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময় সেগুলো তুলেছে। আমাদের কথা হচ্ছে যদি কেউ অপরাধ করে আইন আছে। ভারতেও আইন আছে। যদি কেউ ই-লিগ্যাল ডেসপাস করে তাহলে তার ফরেন অ্যাক্টে বিচার হবে। যেটার মাধ্যমে এখনো তারা আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ সাহেবকে ওইভাবে আটকিয়ে রেখেছে। এখনও উনি মুক্ত নন কারণ পুরোপুরি আটকানো আছেন।

 

এখন পর্যন্ত তারা ওই মামলারও নিষ্পত্তি করেননি। সেই আইনে তো সীমান্তে যে বেআইনিভাবে প্রবেশ করছে তাদের বিরুদ্ধে আপনারা ব্যবস্থা নিতে পারেন, আমাদের সরকার তাদের বিচার করতে পারেন। এই বিষয়গুলো সমাধান হওয়া দরকার। ’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *