নজর২৪, কুষ্টিয়া- বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙায় জড়িত থাকার অপরাধে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিচুর রহমান আনিচ।
শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলা যুবলীগদের দপ্তর সম্পাদক মনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিচকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হাসান রিন্টু বলেন, যুবলীগ কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেনা। ব্যাপারটি ক্ষতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে অবস্থিত কয়া মহাবিদ্যালয় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত।
পুলিশ শুক্রবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে ঘটনায় জড়িত অপর দুজন হৃদয় আহমেদ ও সবুজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বাচ্চু নামে আরো একজন জড়িত আছে বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) তানভীর আরাফাত আজ শনিবার দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, আনিসুরের সঙ্গে কয়া মহাবিদ্যালয় (কলেজ) কর্তৃপক্ষের আগে থেকেই দ্বন্দ্ব আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সহযোগীদের নিয়ে তিনি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে সড়কের পাশে স্থাপিত বাঘা যতীনের ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করেন।
এ ভাস্কর্যটি ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় কোনও সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশেই এটি ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার মাধ্যমে হীন উদ্দেশ্য সাধনের ষড়যন্ত্র ছিল কি না তা তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে দেখা হবে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা ছিলেন বাঘা যতীন। কয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি একাই বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বাঘ হত্যা করেছিলেন বলে বাঘা যতীন নামে পরিচিত পেয়েছিলেন। বাঘা যতীন ছিলেন বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন যুগান্তর দলের প্রধান নেতা।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে কলকাতায় জার্মান যুবরাজের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তিনি জার্মানি থেকে অস্ত্র ও রসদের প্রতিশ্রুতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখতে গ্রামের কলেজের সামনে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়।
২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আবদুস সামাদ ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেছিলেন।
