নজর২৪ ডেস্ক- সাতবছর আগে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত পুরো ঘটনার দায়ভার হেফাজতে ইসলামের সে সময়ের মহাসচিব ও বর্তমান আমীর জুনাইদ বাবুনগরীর ওপর দিয়েছেন সংগঠনটির সদ্য সাবেক নেতারা।
একজন সাবেক যুগ্ম মহাসচিব দাবি করেছেন, তৎকালীন আমীর শাহ আহমদ শফীকে না জানিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীদের রাতভর শাপলা চত্বরে রেখে দেন বাবুনগরী। তার ধারণা ছিল, সারারাত শাপলা চত্বরে অবস্থান নিতে পারলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে তাতে সেনাবাহিনী নামতে বাধ্য হবে।
বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর জামালখানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে প্রয়াত শাহ আহমদ শফীর জীবনকর্ম, অবদান শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়েছে।
শফীপন্থী আলেম-ওলামারা দাবি করেছেন, আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এজন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন তারা।
সভায় হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব সলিমুল্লাহ বলেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে যে ঘটনা হয়েছিল তার পুরো দায়ভার জুনাইদ বাবুনগরীকে নিতে হবে। অনেকেই বলেছিলেন মিটিং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার জন্য। এমনকি আল্লামা আহমদ শফী হুজুরও চেয়েছিলেন সন্ধ্যা ৬টায় কর্মসূচি শেষ করতে। কিন্তু বাবুনগরী সারারাত অবস্থান নেওয়ার কথা বলেন।
তিনি হুজুরকে জানান, সারাদেশ থেকে মাদরাসার ছেলেরা শাপলা চত্বরের উদ্দেশে আসছে। সারারাত থাকতে পারলে সেনাবাহিনী নামবে। এরপর তিনি হুজুরকে না জানিয়েই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। হুজুর মুখ ফুটে একটি কথাও বলেননি। বাবুনগরীর ব্যক্তিগত ইচ্ছায় শাপলা চত্বরের অবস্থান দীর্ঘায়িত হয়েছে।’
শাপলা চত্বরের ঘটনার পর গ্রেফতার হওয়া বাবুনগরীকে ছাড়াতে তৎকালীন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বর্তমান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে হেফাজতের নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন বলেও তথ্য দেন সলিমুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বাবুনগরীকে জেল থেকে ছাড়াতে সেদিন আমরা চট্টগ্রাম শহরের দেবপাহাড়ে একটি ভবনে তৎকালীন পরিবেশ মন্ত্রী ও বর্তমান তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। সেই বাবুনগরী এখন আমাদের দালাল বলেন। শাপলা চত্বরে যারা আহত হয়েছেন তাদের জন্য ফান্ড কালেকশনের কথা ছিল। বাবুনগরীর খামখেয়ালিরর কারনে সেটিও করা যায়নি।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজত ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের মহাসচিব মো. ফয়জুল্লাহ অভিযোগ করেন, শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘এখন থেকে আমরা সামনে যাব, পিছনের দিকে আর যাব না। কারা ঢাকায় বসে কিংবা ফটিকছড়ি-হাটহাজারীতে বসে ষড়যন্ত্র করেছে, সময়ে জাতির কাছে সব প্রকাশ করা হবে। যারা ষড়যন্ত্র করেছে, মিথ্যাচার করেছে, যারা অর্থের যোগান দিয়েছে তারাই হেফাজত ইসলামের মূল শত্রু। আন্দোলনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। যে কোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকার করার জন্য আলেম-ওলামাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’
ফয়জুল্লাহ অভিযোগ করেন, আল্লামা শফির মৃত্যু স্বাভাবিক ছিলো না। এর বিচার করতে হবে। অন্যথায় আলেম সমাজ এর বিচার করবেন।
তিনি বলেন, এখন থেকে আমরা সামনে যাব, পেছনের দিকে যাব না। যারা ষড়যন্ত্র করেছে, মিথ্যাচার করেছে, অর্থের যোগান দিয়েছে, তারাই হেফাজতে ইসলামের মূল শত্রু।
