নজর২৪, ঢাকা- ইসলামের দৃষ্টিতে ভাস্কর্য নিষিদ্ধ বলে জনিয়েছেন চরমোনাইয়ের পীর তথা ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি মুহম্মদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেছেন, ‘ইসলামের দৃষ্টিতে ভাস্কর্য নিষিদ্ধ। তাই আলেমরা ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। এ বিরোধিতা অব্যাহত থাকবে।’
মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, ‘কোনো আলেম ভাস্কর্য ভাঙতে বলেননি। ভাস্কর্য ভাঙা নিয়ম বহির্ভূত কাজ। সরকার এতে জড়িতদের বিচার করলে আপত্তি নেই।’
ভাস্কর্য বিষয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘ওলামায়ে কেরাম কোরআন হাদিসের আলোকে তাদের মতামত জানান মাত্র। তারা কখনোই কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে বলেন না।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যমান আইন-কানুন মেনেই তৌহিদী জনতা সমাবেশ করেছে। সেখানে শালীন ভাষাতেই যৌক্তিকভাবে ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানানোর বিকল্প পন্থাও প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি একেবারেই স্বাভাবিক একটি নাগরিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, একটি সুবিধাভোগী মহল বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দেশে চরম উসকানি ও উত্তেজনা তৈরি করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন করোনা পরিস্থিতির প্রথম ধাপ অতিক্রম করে দ্বিতীয় ধাপের হুমকি সামলাচ্ছে, দেশের সাধারণ মানুষ যখন রুটি-রুজি জোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছে, দ্রব্যমূল্য যখন আকাশচুম্বি, যখন নাগরিক সমস্যা মোকাবিলায় দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তখন দেশের একটি চিহ্নিত মহল জনগণের মাঝে ঘৃণা ও বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে।’
রেজাউল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আজ ৫০বছর হতে চলছে। ঐক্যবদ্ধ এই জাতি মাত্র ৯মাসে দেশটাকে স্বাধীন করেছে। এখানকার মানুষের ভাষা-সংস্কৃতি-ধর্মও প্রায় এক। এমন ঐক্যবদ্ধতা যে কোনও জাতির জন্যই গর্বের। কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, একটি মহল জনতার এই ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করতে চায়।’
এসময়য় তিন আলেমের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে জানাচ্ছি যে, ওলামায়ে কেরামের দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতি কোনও বিদ্বেষ ছিল না, অসম্মানও ছিল না। আলেমসমাজ ও সাধারণ মুসলিম ধর্মপপ্রাণ জনগণ এ ক্ষেত্রে সরকারের কাছে নিজেদের প্রাণের আকুতি তুলে ধরতেই পারে। মানা না মানা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।’
