নজর২৪ ডেস্ক- ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে টানা আশি দিন ধরে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থানরত একদল গার্মেন্টস শ্রমিককে পুলিশ পিটিয়ে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তাজরিন গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা বলছে, সোমবার ভোর ৪টার দিকে পুলিশ এসে তাদের বেদম পিটিয়ে এবং জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে উঠিয়ে দিয়েছে।
সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে জনসংহতি অফিসে সংবাদ সম্মেলনে তাজরীনের শ্রমিকরা এই অভিযোগ করেন। শ্রমিকদের পক্ষে জরিনা বেগম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের মৃত মনে করলেও আমরা মরিনি। যে জ্বালা গত ৮ বছর ধরে আমাদের বুকে জ্বলছে তা না নেভা পর্যন্ত আমাদের এই তিন দফা দাবি আমরা ছাড়বো না। আমরা ফিরে আসবো বারবার, আমাদের মেরে ফেলার আগ পর্যন্ত। ইতিহাস সাক্ষী শ্রমিকেরই বিজয় হবে।’
জরিনা বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে পুলিশ দিয়ে পণ্ড করা হলো। আমাদের জোর করে পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে দেওয়া হলো। পুলিশ আমাদের বলেছে দেশের পরিস্থিতি ভালো না। এজন্য অরাজকতা ঠেকাতে আমাদের জোর করে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন করতে চাই, এই যে তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের আজ ৮ বছর পরেও আমাদের সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলো না। এর চেয়ে বড় অরাজকতা আর কী হতে পারে?
এভাবে জোরপূর্বক পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নাই। আমরা আমাদের অন্তরের অন্তস্তল থেকে তীব্র ঘৃণা জানাই। আমরা এই বিবেকহীন সরকারকে, যে সরকার শ্রমিকদের দাবিকে পাত্তাই দেয় না, যে সরকার শ্রমিকদের মানুষই মনে করে না, সেই সরকারকে অভিশাপ দেই। কোনও একদিন এই দেশের মাটিতে শ্রমিকদের সঙ্গে করা সব জুলুমের বিচার হবে।’
তিনি বলেন, ‘তাজরীনের আহত শ্রমিকেরা করোনাকালীন চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা ও বিপদে পড়ে নিতান্ত নিরুপায় হয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খেয়ে না খেয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছি। আমাদের তিন দফা দাবি, শ্রম আইনের ক্ষতিপূরণের ধারা সংশোধন সাপেক্ষে সব আহত শ্রমিকের সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ প্রদান, সব আহত শ্রমিককে সম্মানিজনক ও বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন, সব আহত শ্রমিকের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই গত ৮০ দিন ধরে আমাদের তিন দফা দাবিকে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের নজরে আনার জন্য এমন কোনও কাজ বাকি নেই যা আমরা করি নাই। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে আসছিলাম। এর মধ্যে গত ৮০ দিনে আমরা গুনে গুনে তিনবার স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শ্রম প্রতিমন্ত্রী এবং বিজিএমইএ’র কাছে। আমরা মাননীয় রাষ্ট্রপতির কাছেও এক দফা স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা সহ আপনারা সবাই দেখলেন এদেশের সরকার শ্রমিকদের মানুষই মনে করে না।’
