নজর২৪ ডেস্ক- এমপি নিক্সন চৌধুরীর কারণে আলোচিত ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে রোববার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত গঠন করা হয়েছিল। কমিটি তদন্ত শেষে ইসির কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
“অনিয়ম হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী চরভদ্রাসন উপজেলার চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচন বাতিল করা হল।”
নতুন নির্বাচনের তারিখ পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয় প্রজ্ঞাপনে।
চরভদ্রাসনের উপজেলা চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে গত ১০ অক্টোবর সেখানে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। এরপর ঘোষিত ফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কাওসার হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৬ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়েছিলেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কে এম ওবায়দুল বারী পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৩৪৬ ভোট। নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১৫ অক্টোবর ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মুজিবর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সনের বিরুদ্ধে মামলা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১০ অক্টোবর চরভদ্রাসন উপজেলার উপনির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করায় জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে ফোন করে কৈফিয়ত দাবি করেন এমপি নিক্সন চৌধুরী। তার সমর্থিত প্রার্থী পরাজিত হলে মহাসড়ক অবরোধ করার ‘হুমকি’ দেন এবং ‘অশোভন আচরণ’ করেন।
একইসঙ্গে নির্বাচনের দিন একটি ভোট কেন্দ্রের বুথের সামনে জাল ভোট দেয়া ও ধূমপান করার সময় একজন পোলিং এজেন্টকে আটকের পর চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে এমপি নিক্সন চৌধুরী ‘অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালাগাল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি’ দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
অবশ্য ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমপি নিক্সন চৌধুরী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার দাবি, হুমকি দেয়ার যে অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে তা ‘সুপার এডিটেড’।
এদিকে মামলার পর হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন নেন তিনি। পরে গত ১৪ নভেম্বর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মনোনিত হন এমপি নিক্সন চৌধুরী।
