নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীর পুরানা পল্টনে ভাস্কর্য বিরোধী মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও মুসল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এখন পুরো এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জানা গেছে, জুমার নামাজের পর মুসল্লিদের একটি দল মিছিল বের করে। এক পর্যায়ে মিছিলটি বায়তুল মোকাররম থেকে পল্টনের দিকে এলে আগে থেকে অবস্থান নেয়া পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মুসল্লিরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। মুসল্লিরাও ইট পাটকেল ছোঁড়ে।কিছুক্ষণ পরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি এনামুল হক মিঠু সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনুমতি ব্যতীত যেকোনো সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও নামাজের পর কিছু লোক বিক্ষোভের জন্য দাঁড়িয়ে যায়। আমরা তাদের সরে যেতে বলেছি।
পরবর্তীতে শাহবাগ মোড়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিই। তারা ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা কারা সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ তারা কোনো ব্যানার নিয়ে আসেনি।’
উল্লেখ্য, ঢাকার ধোলাইরপাড় চত্বরে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য তৈরির পরিকল্পনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ইসলামপন্থী বেশ কয়েকটি দল সেই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।
গত মাসে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী এক সম্মেলনে ভাস্কর্য বিরোধী কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
হেফাজতের শীর্ষ নেতার মন্তব্যের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা ভাস্কর্য তৈরির পক্ষে তাদের শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেন এবং এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিতও দেন।
সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (চৌঠা ডিসেম্বর) জুমার পর ভাস্কর্য স্থাপনের প্রতিবাদে আগেই মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছিল ইসলাম পন্থী বেশ কয়েকটি দল। তাদের বক্তব্য ছিল, ভাস্কর্যের নামে দেশে মূর্তি বানানো হচ্ছে।
ইসলামপন্থী দলগুলোর জোটের পক্ষ থেকে শুক্রবার বিক্ষোভ কর্মসূচির আহ্বান জানানোর পরদিনই বাংলাদেশ পুলিশ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে মনে করিয়ে দেয়া হয় যে ঢাকা শহরে কোন ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সভা সমাবেশ করতে গেলে পুলিশের অনুমতির দরকার হয়।
ভাস্কর্যের বিপক্ষে বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলছেন, তারা এর বিপক্ষে কথা বলেই যাবেন।
তিনি বিবিসিকে বলেছেন, “(ভাস্কর্য) হতে দেবো কি দেবো না সেটা তো আসলে আমাদের বিষয় না। আমাদের বিষয় হল আমরা প্রতিবাদ করবো।”
“শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আন্দোলন করবো। যেটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই জায়গা থেকে আমরা আমাদের ঈমানি দাবিটা জানিয়েই যাব, কথা বলেই যাব। সেটা সরকার রাখবে কি রাখবে না সেটা সরকারের বিষয়।”
বাংলাদেশে এর আগেও ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনাকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ন্যায় বিচারের প্রতীক গ্রীক দেবী থেমিসের একটি ভাস্কর্য স্থাপনের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের পর চাপের মুখে সেটি স্থানান্তর করা হয়।
সরিয়ে ফেলা হয় ঢাকায় বিমানবন্দর, জিপিও’র সামনের ভাস্কর্য।
