‘যথেষ্ট কারণ না থাকলে বিচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্তে আসতাম না’, ক্ষোভ প্রকাশ ফারিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক, নজর২৪- পরিচ্ছন্ন অভিনয়শিল্পী হিসেবে প্রীতি কুড়িয়েছিলেন শবনম ফারিয়া। বেশ কিছু কাজের পর ‘দেবী’ ছবিতে অন্য রকম এক চরিত্রে পাওয়া গিয়েছিল তাঁকে। টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ স্বরূপে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিল ভক্তদের কাছে। তাঁর বিয়ের খবরে কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি, ‘ক্রাইসিস’ আসবে হাস্যোজ্জ্বল ফারিয়ার জীবনে। বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে হবে তাঁকেও। তবে এই বিচ্ছেদকে ‘ক্রাইসিস’ নয়, ইতিবাচকভাবে দেখছেন ফারিয়া।

 

গতকাল সন্ধ্যা ৫টা ৪৩ মিনিটে স্বামী হারুনুর রশীদ অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদের বিষয়টি খোলাসা করে স্ট্যাটাসে ফারিয়া জানিয়েছিলেন, ‘আমাদের প্রায় আড়াই বছরের বৈবাহিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে আবারও ৫ বছরের পুরানো বন্ধুত্বে ফিরে গিয়েছি। বিবাহে বিচ্ছেদ হয়, কিন্তু ভালবাসার বিচ্ছেদ নেই, বন্ধুত্বের বিচ্ছেদ নেই।’

 

বিবাহবিচ্ছেদের খবর জানানোর পরদিন আজ সকাল ১১টা ২১ মিনিটে ফারিয়া আর এক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘তার মানে কি দাঁড়ালো, মানুষ ব্লেইম গেইম, গালি-গালাজ, মানুষকে ছোট করা পছন্দ করে! বিচ্ছেদ কেন সুন্দর হবে!!! কেন বলবে আমরা বিচ্ছেদের পরও বন্ধু থাকবে!!!’

 

শবনম ফারিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো লিখেছেন, ‘প্লিজ মাথায় নেন, শেষটাও সুন্দর হতে পারে, শেষটাও সম্মান দিয়ে, ভালবাসার সাথে শেষ হতে পারে। আমার কষ্ট, আমার অভিমান সব আমার কাছেই থাক। এবং মনে রাখবেন, কাউকে ছোট করা আল্লাহ কখনোই পছন্দ করেন না।’

 

পোস্টে লিখেছেন, কারণ না থাকলে তিনি বিচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতেন না। বলেন, ‘অবশ্যই মানুষটার সাথে আমার যথেষ্ট কারণ না থাকলে বিচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্তে আসতাম না। কাউকে অসন্মান করে যেমন কেউ বড় হতে পারে না তেমনি আমাদের কাছের সবাই ও পরিবার জানে কেন এই সিদ্ধান্তে আসা! তার বাইরে কাউকে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা দেয়ার কোনো দরকারই নেই!’

‘আসলে আমরা চাইও নাই কাউকে জানাতে, কিন্তু ভুয়া ‘একি করলেন শবনম ফারিয়া’ নিউজ না দেখার জন্যে আমরা জানাতে বাধ্য হই!

 

‘যেই মানুষটা গত ৫ বছর ধরে আমার জীবনের সাথে প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে জড়িয়ে ছিল, এতো এতো স্মৃতি যা চাইলেই মোছা যাবে না, তাকে কীভাবে ছোট করি?’ প্রশ্ন করেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া ও বেসরকারি চাকরিজীবী হারুন অর রশীদ অপু। এদিন নৌকায় ভেসে ভেসে পরীর বেশে বিয়ের আসরে হাজির হয়েছিলেন নববধূ শবনম ফারিয়া!

 

অন্যদিকে একই সময়ে লেকের পাড় ধরে ঘোড়ার গাড়িতে চেপে এসেছিলেন বর হারুন অর রশীদ অপু। এমন নান্দনিক বিয়ের আয়োজন এর আগে কোনও শিল্পীকে ঘিরে হয়নি। মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার গভীরে, নয়নাভিরাম ‘জল-জোছনা’য় উন্মুক্ত আকাশের নিচে আয়োজিত হয় এটি।

 

২০১৫ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে ফারিয়া-অপুর পরিচয় হয়। দুজনের ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়। তিন বছর পর বন্ধুত্বের সীমানা পেরিয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে আংটি বদল হয় তাদের। পরের বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জমকালো আনুষ্ঠানিকতায় বিয়ে হয় তাদের। গত শুক্রবার বিচ্ছেদপত্রে সই করেন অপু ও শবনম ফারিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *