জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে লেখা গান গাইলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মমতাজ বেগম। সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ গান পরিবেশন করেন।
মমতাজ আজকের আলোচনায় অংশ নিয়ে মোট দুটি গান পরিবেশন করেন। আলোচনার শুরুতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা একটি গান পরিবেশন করেন তিনি। তার গাওয়া দ্বিতীয় গানটি ছিল শেখ হাসিনা ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে লেখা।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গাওয়া মমতাজের গানের কথা ছিল এমন- ‘লোকে বলে বাংলায় যত দিন রবে, ওই পদ্মা মেঘনা বহমান/তত দিন রবে কীর্তি তোমার তুমি শেখ মুজিবুর রহমান/ আমি বলি, না না লোকে তো জানে না, ওই কীর্তি রবে তোমার কত দিন/ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ নও, তুমি শ্রেষ্ঠ রবে ওই তত দিন, ওই চন্দ্র রবে যত দিন, ওই সূর্য রবে যত দিন…।’
দ্বিতীয় গানে মমতাজ গেয়ে ওঠেন, ‘ওরে রাখব ধরে এই উন্নয়ন আমরা দেশের জনতা/ শেখ হাসিনার হাতে আবার দিয়ে ক্ষমতা/ পদ্মা সেতু পদ্মা নদীতে/ এগিয়ে চলছে দেশ দ্রুতগতিতে…’।
এর আগে সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে সরকারি দলের এমপি মমতাজ বলেছিলেন, দেশে এত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে যে একদিন তা ফেরি করে বিক্রি করতে হবে। সম্প্রতি দেশে লোডশেডিং শুরু হলে মমতাজের সেই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করা হয়।
বিষয়টির ব্যাখা দিয়ে তিনি বলেন, যারা সরকারের ভালোকে দেখতে পারে না তারা নানাবিধ কুকথা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার দিনরাত চালাচ্ছে।
মমতাজ বলেন, “২০১৭ সালে আমি এই সংসদে একটি বক্তব্য দিয়েছিলাম। আমার নির্বাচনী এলাকা মানিকগঞ্জ-২ আসনে ২৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এই এত বড় একটা আসনের মাত্র ৩০ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ ছিল। এই সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে ২০১৭ সালে যখন সংসদে বক্তব্য দেই তখন শতভাগ বিদ্যুতায়ন আমার আসনে করেছি। শুধু তা-ই নয়, যখন এলাকায় যেতাম তখন সবাই এসে বলত, একটা মিটার দেন, একটা মিটার দেন। আমাদের আগে যারা ছিল তারা মিটার তো দিতেই পারেনি। কিন্তু দেবে বলে ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দুর্নীতি করেছে।
আমরা বলেছিলাম, একটা টাকাও দুর্নীতি হবে না। মিটারের জন্য সরকারি যে রেট আছে সেটই আপনারা জমা করবেন। আপনাদের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের লাইন ও মিটার আমরা পৌঁছে দেব। দিয়েছিলামও তাই। শুধু তা-ই নয়, আমরা ইউনিয়ন পরিষদে মাইকিং করে মানুষকে বলেছিলাম মিটার লাগবে আপনাদের? কার মিটার লাগবে আপনারা ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করে নিয়েন। এই বক্তব্যটাই জাতীয় সংসদে আমার ছিল যে ‘এখন ফেরি করে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গেছে। মিটার ফেরি করে দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ আমরা মানুষের ঘরে ঘরে এ রকম করে পৌঁছে দিচ্ছি।’ এই কথাটাকেই ট্রল করে… বিএনপি-জামাতের জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও বিভিন্নভাবে বক্তব্যে একই কথা, কই ফেরি করে দিচ্ছেন না। আমরা দিয়েছি তো। আর যদি সেটা না দিতে পারতাম―আজকের এই যে বাজেট দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, আমরা প্রতিবছর বাজেট বাড়াতে পারছি। মানুষকে আজকে সুখে-শান্তিতে রাখতে পারছি। যদি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ না যেত এটা কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।”
