উনি আমাকে খুব আদর করতেন: শাবনূর

বাংলা চলচ্চিত্রের মিয়াভাই খ্যাত চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক সোমবার (১৫ মে) না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বরেণ্য এই নায়কের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্রাঙ্গন। খবরটি শুনে গেল দুইদিন থমকে ছিলেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। ঘটনাটি মেনে নিতে আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল তার!

এ কারণে গেল দুই দিনে বিষয়টি নিয়ে কিছুই বলতে পারেননি এই অভিনেত্রী। শুধু আনমনে ভেবেছেন। অবশেষে বুধবার (১৭ মে) নায়ক ফারুককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন শাবনূর।

নায়ক ফারুক অভিনীত তুমুল জনপ্রিয় সিনেমা ‘সুজন সখি’। সাদাকালো এই সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেন আরেক কিংবদন্তি সারাহ বেগম কবরী। ১৯৯৪ সালে ‘সুজন সখি’ নতুন করে নির্মাণ করা হয়। এই সিনেমায় জুটি বেঁধে অভিনয় করেন সালমান শাহ-শাবনূর।

শাবনূর ফেসবুকে লিখেছেন, আমার ভীষণ সৌভাগ্য হয়েছিল ওই সময় ফারুক সাহেবের সাদাকালো দুইটা ছবিতে কাজ করার ‘রঙিন নয়ন মণি’ ও ‘রঙিন সুজন সখি’। এজন্য আমি আমাদের লিজেন্ডারি পরিচালক শাহ আলম কিরণ ও মতিন রহমানের কাছে ভীষণ কৃতজ্ঞ। ফারুক ভাইয়া আমার দুটি ছবি দেখেই ভীষণ প্রশংসা করেছিলেন। বলেছিলেন, উনি এখন সুজন কিংবা নয়ন হতে পারলে আমাকেই সখি বা মনি বানাতেন।

খারাপ লাগার বিষয় হলো সাদাকালো ও রঙিন সুজন সখির মধ্যে ফারুক ভাইয়া, কবরী আপা, সালমান শাহ কেউই পৃথিবীতে নেই। ব্যাপারটা ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু উনারা সকলেই আমাদের মনে সারাজীবন বেঁচে থাকবেন।

স্মৃতিচারণ করে শাবনূর আরো লিখেছেন, এই তো কিছুদিন আগে মনে হচ্ছে সেদিন দেখা হলো উনার সাথে আমার। আমি তাকে ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলাম যখন উনি ইলেকশনে জয়ী হলেন। উনি আমার মাথায় হাত দিয়ে অনেক দোয়া দিলেন আর বললেন, ‘তুই সিডনী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’ খুলে সমাজের জন্যে অনেক ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছিস। আমি শিগগিরই তোর স্কুল ভিজিট করতে যাব। কিন্তু উনার আর ভিজিট করা হলো না!

তার সাথে আমার সাথে অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না। উনাকে বাইরে থেকে অনেকেই গম্ভীর মনে করতে পারেন কিন্তু আসলে উনি তা নন। আমার সাথে উনার প্রথম দিনের শুটিং এর ঘটনাটি ছিল ভীষণ মজার। আমি ভীষণ ইতস্তত বোধ করছিলাম উনার সঙ্গে কথা বলতে। তারপর উনার সাথে কথা বলে বুঝলাম উনি আসলে ভীষণ মজার একটি মানুষ। উনি খুব আদর করতেন আমাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *