বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক অনেক গভীর: অমিত শাহ

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক অনেক গভীর। কেবল তাই নয়, আমাদের সংস্কৃতি, কলা, আমাদের ভাষা, আমাদের জীবন পরম্পরার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রয়েছে। হাজার বছর ধরে একই সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে চলা দুই রাষ্ট্রের মধ্যেকার সম্পর্ক এখনও আবহমান। বাংলাদেশের জন্ম থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে ভারত বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রচনা করেছে। তাই বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্ক কেউ ছিন্ন করতে পারবে না।’

মঙ্গলবার (৯ মে) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পেট্রাপোল স্থল সীমান্তে অনুষ্ঠিত ‘ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ (এলপিআই) ও বিএসএফের একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসে এই মন্তব্য করেছেন অমিত শাহ।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিএসএফের অবদানের কথা স্মরণ করে শাহ আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে বিএসএফ’এর বড় ভূমিকা ছিল। এ কারণে বাংলাদেশ এবং ভারত দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং উষ্ণতার সম্পর্ক এখনও বিরাজমান। আজকের এই স্থান থেকে সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরো নতুন গতি আসবে।’

সীমান্তে বিএসএফের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বিএসএফ ছাড়া ভারতের স্থলসীমা সুরক্ষিত থাকতে পারে না। এই কারণে বিএসএফের প্রত্যেকটি জাওয়ানকে আমি বলি, যখন বিএসএফের জওয়ানরা সীমান্তে পাহারা দেয়, তখন দেশের সাধারণ মানুষের একেবারেই চিন্তা করার কোনো কারণ নেই।’

অমিত শাহ ছাড়াও এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী, ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এলপিআই) চেয়ারম্যান আদিত্য মিশ্র, বিএসএফ’ এর ডিজি সুজয় লাল থাউসেন সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রমূখ।

পেট্রাপোলে ‘ল্যান্ড পোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগদান করে অমিত শাহ প্রথমেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্দেশে নিজের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ভারত এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত লেখার সম্মান অর্জন করেছেন।”

এরপর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্বিতীয় ‘কার্গো’ গেটের উদ্বোধন করে অমিত শাহ বলেন, “ল্যান্ড পোর্ট অথিরিট অব ইন্ডিয়া ২০১৬-১৭ আর্থিক বর্ষে ১৮,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। এখন তা ৩০,০০০ কোটি টাকার গণ্ডিও ছাড়িয়ে গেছে।”

পেট্রাপোল সীমান্তে যাত্রীদের পরিসংখ্যান তুলে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “২০২২-২৩ সালে ২০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। প্রতিদিন ১১,০০০ যাত্রীর আগমন হয়েছে। দ্বিতীয় কার্গো গেট তৈরি হওয়ায় এই যাতায়াত আরও সুগম হবে।” অমিত শাহ আশাবাদী, ভারত ও বাংলাদেশের এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *