নজর২৪, ঢাকা- রাজধানীর উত্তরায় মিলল হাতবোমা তৈরির কারখানা। সেখান থেকে জব্দ করা শক্তিশালী ৩১টি হাত বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।
আটক হওয়া যুবদল নেতা মামুন ও সোহেলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বোমার কারখানার সন্ধান মেলে বলে জানায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে নাশকতার চেষ্টাকারীর সঙ্গে জড়িত বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
পুলিশ বলছে, সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের দিন একই এলাকায় হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক করা হয় দুজনকে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সকাল থেকে অনুসন্ধানে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। সে সময় একই এলাকার ১৪ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে জব্দ করে বিপুল সংখ্যক হাতবোমা।
স্থানীয়রা জানান, পরে খোঁজ মেলে বোমা তৈরির কারখানারও। বিকেল ৫টার দিকে নির্মাণাধীন এই ভবনে আসে বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট। একে একে বিকট শব্দে নিষ্ক্রিয় করতে থাকে উদ্ধার হওয়া বোমা।
গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান জানান, রাজনৈতিক নাশকতার উদ্দেশে তৈরি হচ্ছিল হাতবোমাগুলো।
তিনি বলেন, এখানে বসেই তারা এই বোমাগুলি বানিয়েছিল। এগুলোর কিছু কিছু তারা ব্যবহারও করেছে। ব্যবহার করার সময় পুলিশ প্রশাসনের হাতে গ্রেফতার হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি যে, তারা আরও বোমা বানিয়ে মজুদ করেছে।
জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (গোয়েন্দা-উত্তর) কাজী শফিকুল আলম বলেন, গত ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচনের দিন কামারপাড়া ও মালেকা বানু- এই দুটি ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ সোহেল নামের এক যুবককে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন ও আরেক যুবদল কর্মী সুমনকে আটক করে।
উপকমিশনার শফিকুল আলম বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জেনেছি সুমন বোমা বানাতে অভিজ্ঞ। ২০১২ সাল থেকে সে বোমা বানিয়ে আসছে।’ ‘তবে কার নির্দেশে এসব বোমা বানানো হয়েছে, এর পেছনে কারা আছে, এখন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব জানা হবে’, যোগ করেন তিনি।
পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো সাধারণ নয়, তুলনামূলক শক্তিশালী। এর ভেতরে তারকাটা, রিপিটার ও রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া গেছে। কী ধরণের রাসায়নিক পদার্থ, তা জানতে নমুনা ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
