প্রেমের মাধ্যমে বিয়ে হলে দুজনের বোঝাপড়াটা ভালো থাকে: সাইমন

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। নয় বছর প্রেমের পর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে করেছেন তিনি। তার স্ত্রীর নাম দীপা সাদিক। গৃহিণী হিসেবে ঘর-সংসার আর সন্তানদের সামলানোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার কাঁধে।

‘পোড়ামন’-খ্যাত এই নায়ক জানান, ২০০৬ সাল থেকে দীপার সঙ্গে তার প্রেম ছিল তাদের। বর্তমানে দুই সন্তান নিয়ে তাদের সুখের সংসার।

ভালোবাসা দিবসকে বিশেষ কিছু মনে করেন না সাইমন। তার কাছে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ভালোবাসার। তিনি একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ভালোবাসা দিবস ব্যাপারটা আমার সঙ্গে খুব একটা যায় না। ঈদ ছাড়া কোনও বিশেষ দিনই আমাকে টানে না। ভালোবাসা কোনও দিবসে বন্দি না। এ কারণে ১৪ ফেব্রুয়ারি নিয়ে আমার কোনও আয়োজন থাকে না। ভাবনাতেও এটা নেই।’

কিছু দিন আগেই স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সপ্তাহব্যাপী ট্যুর সেরে এসেছেন সাইমন। তার ভাষ্য, ‘যদি ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশেষ কিছু হতো আমার কাছে, তাহলে আমরা এই উপলক্ষেই ঘুরতে যেতাম। কিন্তু আমরা তো কিছু দিন আগেই ঘুরে এসেছি। বান্দরবান, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সিলেট অনেক জায়গায় গিয়েছি। এসব বলছি, তার মানে এটা না যে ভালোবাসা দিবস খারাপ কিছু। যারা উদযাপন করেন, তাদের জন্য আমার শুভেচ্ছা, ভালোবাসা রইলো। তারা আনন্দ করুক। কোনও একসময় হয়তো আমিও করার জন্য করেছি।’

সাইমন মনে করেন, বিয়ের ক্ষেত্রে আগে থেকে জানাশোনা বা প্রেম থাকলে ভালো। বিষয়টিকে তিনি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘প্রেম থেকে পরিণয়, এর মাধ্যমে দুজনের বোঝাপড়াটা ভালো থাকে। আর অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ তো আমি করিনি, তাই বেশি কিছু বলতেও পারবো না। তবে এটুকু মনে হয়, একজন মানুষকে চিনি না, জানি না, তার সঙ্গে সারা জীবন কাটাতে হবে; এটা একটু কঠিন বটে। এজন্য আমার ভাবনায় চেনা-জানা বা প্রেমের মাধ্যমে বিয়ে করাই শ্রেয়।’

তারকা হওয়ার সুবাদে অনেক ব্যস্ততায় থাকতে হয়। আবার সিনেজগৎ নিয়েও থাকে কারও কারও আপত্তি-সীমাবদ্ধতা। এসব কীভাবে অ্যাডজাস্ট করেন সাইমন-দীপা?

জবাবে এই নায়ক বলেন, ‘আমাদের খুব একটা অ্যাডজাস্ট করতে হয় না। কারণ, আমার স্ত্রীর এসব বিষয় নিয়ে কোনও আপত্তি বা ধরাবাঁধা নেই। তাছাড়া পরিবারে আমি যথেষ্ট সময় দেওয়ার চেষ্টা করি। শুটিং আমার কর্ম, সেটা নিয়ে তার কোনও বাধাবিপত্তি নেই। আমাদের বোঝাপড়া আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো।’

উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রে সাইমন সাদিকের আগমন ২০১২ সালে। পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর ‘জ্বী হুজুর’ চলচ্চিত্রটি ছিল উপলক্ষ। এরপরের বছর ২০১৩ সালে ‘পোড়ামন’ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের কাছে বিপুল পরিচিতি পান এ নায়ক।

কাজ করেছেন- এর বেশি ভালবাসা যায় না, তোমার কাছে ঋণী, স্বপ্নছোঁয়া, তুই শুধু আমার, ভুলতে পারি না তারে, অ্যাকশন জেসমিন, ব্ল্যাক মানি, চুপি চুপি প্রেম, মাটির পরী, পুড়ে যায় মন, অজান্তে ভালোবাসা, জি হুজুর, জান্নাত ও আনন্দ অশ্রুর মতো ছবিতে।

অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *