চার বছর ধরে সেন্সরে আটকে থাকা ‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে নানা প্রতিবাদের পরও সার্টিফিকেট মেলেনি। সম্প্রতি সিনেমাটি পুনরায় প্রদর্শনের পর আপিল বোর্ড সিনেমাটির বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, ছবিটি মুক্তিতে কোন বাধা নেই।
কিন্তু এরপরও ছবিটি নিয়ে কোন সিদ্ধান্তই আসছে না। কিছুক্ষণ আগেই তিনি জানতে পেরেছেন, সিনেমাটি ফের পূনঃপরীক্ষণ করা হবে। এ নিয়ে ফের বিড়ম্বনায় পড়েছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফারুকী। লিখেছেন, অসম্ভব বা অবিশ্বাস্য বলে কোনো কিছু আর আমাদের দেশে থাকতে দেবে না— এই মর্মে পণ করেছে আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয়। তথ্য মন্ত্রণালয়কে কেন টানছি? চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, ব্যাংকের নিজস্ব কোনো টাকা নেই, তেমনই সেন্সর বোর্ডেরও নিজস্ব কোনো মত নেই!
পরিচালক লিখেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছাই সেন্সর বোর্ডের ইচ্ছা। তো সাধারণত অন্যায়-অনিয়ম করা হলেও সেগুলো একটা নিয়মের মেক-আপের আড়ালে করা হয়। দুঃখজনক হচ্ছে, শনিবার বিকেলের ক্ষেত্রে সেই মেকআপ রক্ষা করারও প্রয়োজন বোধ করছে না তারা। গত ২১ জানুয়ারি আপনারা সবাই জেনেছিলেন, আপিল কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিসক্লেমার যুক্ত করে শনিবার বিকেল ছেড়ে দেওয়ার। কয়দিন আগে দিল্লী হাইকোর্টও ফারাজ সিনেমার ব্যাপারে একই অভিমত দিয়েছিল।
তিনি লিখেন, আপনাদের মতো আমরাও ভেবেছিলাম, যাক সকল নাটক শেষ হলো। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে আবার আমরা জানলাম, তথ্য মন্ত্রণালয় তার তৈরি করা আপিল কমিটির সিদ্ধান্তও মানতে নারাজ। ফলে আবারও শনিবার বিকেল পূনঃপরীক্ষণের জন্য সেন্সর বোর্ড আপিল কমিটির সভা ডেকেছে। আই মিন, সিরিয়াসলি! একটা রাষ্ট্র যখন তার নিজের বানানো প্রতিষ্ঠানেই ভরসা রাখতে পারে না, তখন বুঝতে হবে আমরা সিরিয়াস প্রবলেমে আছি।
উল্লেখ্য, ফারুকী নির্মিত ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশ থেকে জাহিদ হাসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, মামুনুর রশিদ, ইরেশ যাকের, ইন্তেখাব দিনার, গাউসুল আলম শাওন, নাদের চৌধুরী, ভারতের পরমব্রত চ্যাটার্জি, প্যালেস্টাইনের ইয়াদ হুরানিসহ অনেকে।
সিনেমাটি নির্মাণের পর চার বছর সেন্সরে দরজায় আটকে ছিল। অবশেষে, গেল ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি নিয়ে আপিল বোর্ডের শুনানি হয়। সেখানে সিনেমার নির্মাতা-প্রযোজকের বক্তব্য শোনেন আপিল কমিটির সদস্যরা। এরপর বিশেষ শর্তে সিনেমাটি মুক্তির পক্ষে মত দেন তারা।
