দেশের প্রেক্ষাগৃহে বলিউড সিনেমা মুক্তির বিরুদ্ধে বরাবরই সরব থাকেন ঢালিউডের বড় একটি অংশ। শাহরুখ খানের ছবি ‘পাঠান’ এখানে মুক্তির ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে, শুনেই বিরোধিতা শুরু করেছিলেন তারা।
তবে ভারতীয় হিন্দি সিনেমা আমদানির ক্ষেত্রে আপত্তি দেখাননি শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক (মামলা চলমান) নিপুণ আক্তার। কিন্তু বিনিময়ে চেয়ে বসেছেন লভ্যাংশের ১০ শতাংশ অর্থ। নিপুণের এই দাবি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই সামাজিক মাধ্যমে চলছে বেশ সমালোচনা।
এদিকে নিপুণের এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। যিনি নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর আপিলে বাদ পড়েন। তবে জায়েদ খান আদালতে যাওয়ায় সাধারণ সম্পাদক পদে কে থাকবেন, তার চূড়ান্ত মীমাংসা এখনও হয়নি।
সংবাদমাধ্যমকে জায়েদ খান বলেন, “সে (নিপুণ) নিজে যেমন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে, তার কথাবার্তাও অবৈধ।
“পাঠানের আয়ের ১০ শতাংশ যদি দিতেই হয়, শিল্পী সমিতিকে কেন দেবে? চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট আরও কত সংগঠন আছে। ক্ষতিগ্রস্ত তো সবাই হবে। তাছাড়া ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে সিনেমা আনবে কি শিল্পী সমিতিকে টাকা দেওয়ার জন্য? এগুলো অযৌক্তিক, শিশুসুলভ কথাবার্তা।”
এই চিত্রনায়কের মতে, বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার সক্ষমতা এখনও অর্জন করেনি ঢালিউড। ফলে এখন ভারতীয় সিনেমা আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে আত্মঘাতী।
তিনি বলেন, “ওদের বড় ইন্ডাস্ট্রি। একশ কোটি টাকা বাজেটে সিনেমা বানায়। আমাদের সিনেমার বাজেট থাকে এক কোটি টাকা। এক কোটি টাকা বাজেটের সিনেমা কখনোই একশ কোটির সাথে পাল্লা দিয়ে টিকতে পারবে না। বাংলা ছবি তখন কেউ দেখবে না।
“আমাদের দেশের সিনেমা সাঁতাও মুক্তি পাবে। একজন পরিচালক গাঁটের টাকা খরচ করে কত কষ্টে সিনেমাটা বানিয়েছেন। এখন যদি পাঠান মুক্তি পায়, সাঁতাও কোথায় যাবে?”
জায়েদ খান বলেন, “ডিশের সহজলভ্যতার কারণে টেলিভিশনের বাজার পুরোপুরি ভারতীয় সিরিয়ালের দখলে চলে গেছে। হিন্দি ছবি দেশে আনলে হলের বাজারও ওদের দখলে চলে যাবে।
“আমাদের শিল্পীরা কাজ পাবে না। না খেয়ে মরবে। সে অবস্থা আমি কোনোভাবেই দেখতে চাই না। ফলে শুরু থেকে যেমন হিন্দি ছবি আনার বিরুদ্ধে ছিলাম, এখনও বিরুদ্ধেই আছি। আমি কোনোভাবেই হিন্দি ছবি আনার পক্ষে না।”
