পিছু হটবার পথ নেই, আন্দোলন করেই লক্ষ্যে পৌঁছাব: মির্জা ফখরুল

৩২ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। হাইকোর্টের দেওয়া ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় সোমবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা।

সেখান থেকে ফখরুল-আব্বাস সরাসরি রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সিনিয়র দুই নেতাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা দাবিতে স্লোগান দেন।

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা ও আপনাদের আন্দোলের মাধ্যমে আমরা মাত্র দুজন মুক্তি পেয়েছি। আরও সবাই এখনও কারাগারে। শুধু বন্দি নয়, তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। একটা সেলের মধ্য ৫ থেকে ৭ জনকে গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা গ্রেপ্তার করে ভোটের অধিকারের আন্দোলন বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল কিন্তু এতে আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে। সারা দেশ আন্দোলনে প্রকম্পিত হচ্ছে। সরকার যত বেশি অত্যাচার করবে তত বেশি মানুষ ফুঁসে উঠবে। পিছু হটবার পথ নেই। আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাব। তাই আন্দোলন আরও তীব্র করতে হবে৷ এর মাধ্যমে দেশকে মুক্ত করতে হবে। আসুন এই শপথ নিয়ে নতুন অঙ্গীকার করি। বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে।’

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারা ভেবেছিল গ্রেপ্তার করে, কারাগারে আটকে রেখে, বিএনপির অফিস ভেঙে-হামলা করে, অত্যাচার করে, গুম করে ও গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের আন্দোলনকে বন্ধ করে দেবে। এর আগে আমাদের প্রায় ১২ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আন্দোলন কি বন্ধ হয়েছে? হয়নি, বরং আরও শক্তিশালী হয়েছে, বেগবান হয়েছে।

গোটা বাংলাদেশ আজ প্রতিবাদে প্রকম্পিত হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, গ্রেপ্তার করে, আটক করে, কষ্ট দিয়ে ও হত্যা করে আমাদের দমন করতে পারবে না। এই দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। মানুষ অধিকার আদায়ের জন্য নেমে পড়েছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার উল্লেখ করে সদ্য কারামুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আপনাদের চাপের মুখে সরকার তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবেন।

এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রকিবুল আলম মঞ্জু, উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বিএনপির ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের আগের দিন ৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে নিজ-নিজ বাসা থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এক মাস পর আজ জামিনে মুক্তি পান এই দুই নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *