মেসি অনুপ্রেরণা, তার মতো আমিও একই কাজ করতে চাই: নেইমার

আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিই ব্রাজিলের তারকা নেইমার জুনিয়রের কাছে অনুপ্রেরণা। মেসি যেভাবে কাতার বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন করেছেন, ঠিক সেভাবেই ২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে চলা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলে ব্রাজিলকে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপ জেতাতে চান নেইমার।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমকে এমনই জানিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। নেইমারের বয়স এখন ৩০ বছর। ২০২৬ সালে তাঁর বয়স হবে ৩৪ বছর। তিনি যদি চোটমুক্ত থাকতে পারেন, তাহলে অনায়াসে আরও একটি বিশ্বকাপে খেলতেই পারেন।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে মারাত্মক চোট পেয়ে সেমি ফাইনালে খেলতে পারেননি। ২০১৮ সালে চোটমুক্ত থাকলেও, কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই চোট পেয়ে গ্রুপের বাকি ২ ম্যাচ খেলতে পারেননি নেইমার। ফলে এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব একটা ভাল নয়।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ফিট থাকাই নেইমারের প্রধান লক্ষ্য থাকবে। সেটাই হয়তো তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হবে। মেসির মতোই নিজের শেষ বিশ্বকাপে অসাধারণ খেলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামবেন নেইমার।

২০১০ সাল থেকে ব্রাজিলের সিনিয়র দলের হয়ে খেলছেন নেইমার। তিনি এখনও পর্যন্ত দেশের হয়ে ১২৪ ম্যাচ খেলে ৭৭ গোল করেছেন। ব্রাজিলের হয়ে গোলের সংখ্যায় এখন কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে একই অবস্থানে নেইমার। দেশকে অলিম্পিক্সে সোনা জেতালেও, কোপা আমেরিকা বা বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি নেইমার। ২০১৯ সালে ব্রাজিল কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হলেও, চোটের জন্য সেই প্রতিযোগিতায় খেলতে পারেননি নেইমার। তিনি দেশকে সাফল্য এনে দিতে চান। ১৯৭০ সালের পর ব্রাজিল ফের বিশ্বকাপ জেতে ১৯৯৪ সালে। ২০২৬ সালে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানোই লক্ষ্য নেইমারের।

মেসির সঙ্গে নেইমারের সম্পর্ক খুবই ভাল। তাঁরা বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলতেন। সেই সময় মেসি-নেইমার-লুই সুয়ারেজ ত্রয়ী বিপক্ষ দলগুলির কাছে আতঙ্ক হয়ে উঠেছিল। নেইমার বার্সা ছেড়ে প্যারিস সাঁ জা-য় যোগ দেওয়ায় সেই জুটি ভেঙে যায়। তবে গত বছর মেসিও বার্সা ছেড়ে পিএসজি-তে যোগ দেওয়ায় ফের একসঙ্গে খেলছেন নেইমার ও মেসি।

এবার আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতার পর মেসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নেইমার। তিনি ক্লাবের সতীর্থকে আদর্শ করে এগোতে চাইছেন। জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য পাওয়াই নেইমারের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

তিনি বলেন, “চার বছর পরের ‘যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা’-তে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপেও আমি অংশগ্রহণ করতে চাই ও সেই আসরে জয়ের জন্য আমি সবকিছু করতে রাজি।”

নেইমার জানান, “লিওনেল মেসি যেমন তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ জিতে বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে তিনি সর্বকালের সেরা ফুটবলার। আমিও তেমনি চার বছর পর একই কাজ করতে চাই ব্রাজিলের হয়ে। সে আমাকে এই বিষয়ে অনুপ্রাণিত করেছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *