বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। এতে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রখ্যাত পরিচালক কজী হায়াৎ।
নির্বাচিত হলে চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে কী কী করবেন এই পরিচালক? এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে কাজী হায়াৎ বলেন, ‘আমার মনে হয় সবার একটাই প্রতিশ্রুতি, চলচ্চিত্রের উন্নয়নে আমরা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করব। দেশের সিনেমা শিল্পকে ভালো একটা অবস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের চলচ্চিত্রশিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে সিনেমা হলের অভাব। আমি নির্বাচিত হলে সেমিনার করে সবার সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। তারপর সবার সম্মতিক্রমে সরকারের বরাবর এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করব।’
এ সময় কাজী হায়াৎ তার প্যানেলের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ‘এখন এফডিসিতে শুটিং হয় না। পুবাইলে দশ পার্টির শুটিং হয় আর এফডিসিতে এক পার্টির শুটিং হয়। কেন? এফডিসির যন্ত্রপাতির ভাড়া বেশি বলে। চেষ্টা করব বিষয়গুলো সমাধানের। ভাড়া কমানো যায়, নাকি অন্যকোনো সুযোগ বের করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করব। যেমন, কেউ যদি সম্পূর্ণ শুটিং এফডিসিতে করে তাহলে এফডিসি তাকর জন্য ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুযোগ রাখতে পারে। এসব বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া ও বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে আমার ক্যাবিনেটের লক্ষ্য। সে বিষয়ে চেষ্টা করব।’
বর্তমান সমিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত যারা আছেন তারা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কতটা সফল— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা ব্যর্থ বলেই তো এই ৭৫ বছর বয়সে আমি নির্বাচন করছি। তারা ব্যর্থ না হলে তো এ বয়সে নির্বাচনে আসতাম না।’
পিকনিক ও ইফতার পার্টিতেই পরিচালক সমিতির দায়িত্ব শেষ হয় না উল্লেখ করে এ নির্মাতা আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে পরিচালক সমিতির কী কাজ? পিকনিক আর ইফতার পার্টি। এগুলো তো কোনো কাজ না। কাজ হচ্ছে, সভা করে সেমিনার করে বিভিন্ন ঘাটতিগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোর সমাধান করা।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ লাখ টাকা খরচ করে একটি পিকনিক করলাম, মানুষকে একবেলা ভাত খাওয়ালাম। একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করে ১০-১২ লাখ টকা খরচ করলাম, মানুষকে দুটি খেজুর আর এক বাটি পায়েস খাওয়ালাম। এটা আসল কাজ না এবং এটা আমার ক্যাবিনেটের উদ্দেশ্যও না। আমার উদ্দেশ্য হলো পরিচালক সমিতির মাধ্যমে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা এক হয়েছি। যদি ভোট দেয় তাহলে কাজ করতে পারব। আর না দিলে গতানুগতিকভাবে চলবে।’
