পরিচালক-প্রযোজককে ‘প্রতারক’ উল্লেখ করে রাজ রিপার স্ট্যাটাস

সম্প্রতিই ‘ব্যাচেলর ইন ট্রিপ’ নামে একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন নবাগত নায়িকা রাজ রিপা। চুক্তির সময় সাইনিং মানি হিসেবে মোট পারিশ্রমিকের ৩০ ভাগ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও না পেয়ে সিনেমার পরিচালক ও প্রযোজককে ‘প্রতারক’ বলে মন্তব্য করেছেন রিপা। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সোশ্যালে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৭টার দিকে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে জানান, নতুন যে সিনেমায় সাইনিং করেছেন সেটা করবেন না। দুদিন আগেই পরিচালক নাসিম সাহনিককে জানিয়েছেন বিষয়টি।

রিপা তার স্ট্যাটাসে আরও জানান, তিনি গত ২৫ নভেম্বর সিনেমায় সাইন করেন। সাইনিংয়ের সময় ৩০ ভাগ পারিশ্রমিক দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা কয়েকদিন পরও আসেনি। তাকে নিয়ে নতুন সিনেমার নিউজও করানো হয়েছে। যারা ৩০ ভাগ পারিশ্রমিক দেয়ার যোগ্যতা রাখেন না তাদের সিনেমায় কাজ করবেন না বলে জানান এই নবাগত।

প্রতারণার জন্য আইন পর্যন্ত যাননি তিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আইনের দ্বারস্থ হবেন। তার কাছে সব প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান রিপা।

সাইনিং মানি না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে পরিচালক নাসিম সাহনিক বলেন, ‘সাইনিংয়ের দিন ১০ হাজার টাকা তাঁকে দিতে চেয়েছিলাম আমরা, তিনি নেননি। সাইনিংয়ের পুরো টাকাই তিনি চেয়েছেন। ওই সময় পুরো টাকা কাছে না থাকার কারণে বিকাশে পরে পাঠানোর কথা বলেছিলাম। একটু দেরি হওয়াতে ঝামেলা পাকিয়ে ফেলেন নায়িকা। পরে তো তিনি ফেসবুকে এই ঘটনা ঘটিয়ে দিলেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার আগে আমি তাঁকে ভালোভাবে বুঝিয়েছিলাম। কাজটি আমরা একসঙ্গে করব, এ কারণে শান্ত থাকতে বলেছিলাম তাঁকে। কিন্তু তিনি তো শান্ত থাকলেন না।’

স্ট্যাটাসে রাজ রীপার ‘প্রতারক’ শব্দটি ব্যবহার করা ঠিক হয়নি মন্তব্য করে ছবির প্রযোজক মামুনুর ইসলাম বলেন, ‘সাইনিংয়ের সময় কথা হয়েছিল, শুটিং, ডাবিং শেষ করা পর্যন্ত তাঁকে চার ভাগে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে। আমি ওই দিন ১০ হাজার টাকা সাইনিং মানি দিতে চেয়েছিলাম। তিনি ৩০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। আমি রাজি ছিলাম না। পরে পরিচালকের মধ্যস্থতায় বিকাশে টাকা পাঠানোর কথা ছিল। ওই দিন রাতে দেরি করে বাসায় ফেরার কারণে আর সম্ভব হয়নি। পরদিন শুক্রবার ছিল, দেরি করে ঘুম থেকে উঠে দেখি, রাজ রীপার অনেকগুলো এসএমএস। যেগুলো হুমকির পর্যায়ে পড়ে। আমি চিন্তা করে দেখলাম, ছবি শুরু না হতেই এ ধরনের আচরণ। ছবির শুটিং শুরু হলে তো তাঁকে নিয়ে কাজই তুলে আনতে পারব না। ঘুম থেকে উঠে তাঁর এসএমএসের ভাষা দেখে ওই দিন আর টাকা পাঠাইনি তাঁকে। কারণ, বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব বাড়াবাড়ি করেছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *