কাল রাতেও চোখে বেয়ে পানি ঝরেছে, তিশাকে বুঝতে দেইনি: ফারুকী

প্রায় তিন বছর ধরে সেন্সর নীতিমালা জটিলতায় আটকে আছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’। ২০১৯ সালে ‘শনিবার বিকেল’ মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪১তম আসরে দুটি পুরস্কার পায় ছবিটি। এছাড়া স্থান পেয়েছে বুসান ও সিডনি উৎসবের অফিসিয়াল সিলেকশনেও। কেবল বাংলাদেশেই মুক্তি পাচ্ছে না ছবিটি।

সেন্সর জটিলতা কাটিয়ে ছবিটি মুক্তি দিতে সম্প্রতি সরব হয়েছেন চলচ্চিত্র-নাট্য পরিচালক, অভিনেতা ও কলাকুশলীরা। এবার সিনেমাটি মুক্তির দাবিতে ১৩০ জন শিল্পী একটি বিবৃতি দিয়েছেন। শিল্পিদের এমন সাপোর্টে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ফারুকী। কৃতজ্ঞতায় চোখ ভিজেছে তার।

ফারুকী তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা ও কন্যা ইলহামকে নিয়ে এখন অবস্থান করছেন সিডনিতে। সেখানে থেকেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তার সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

এখন আর লুকাতে চাই না। আমি মানুষটা এককীত্বকে মৃত্যুর মতো ভয় পাই। গত তিন বছর আমার প্রচণ্ড অভিমান হয়েছিল, আমার সহযোদ্ধাদের ওপর, বাংলাদেশের ওপর। শনিবার বিকেলকে কেন্দ্র করে আমার ওপর যে অন্যায় করা হচ্ছিলো তা কেবল আমাকে এবং আমার বউকেই একা একা বইতে হচ্ছে ভেবে কত রাত যে মনে মনে অভিমানে দেশ ছেড়ে চলে গেছি তার ইয়ত্বা নাই। কত রাত যে ঘুমাতে পারি নাই, হিসাব নাই।

কালকে রাতেও আমি ঘুমাতে পারি নাই। তবে কষ্টে না, কৃতজ্ঞতার আনন্দে। মানুষের হৃদয়ের জন্য কৃতজ্ঞতার চেয়ে ভালো কোনো ওষুধ আজও আবিষ্কার হয় নাই।

কাল রাত সিডনি সময় তিনটায় যখন ঘুমাতে যাই তখনও বাচ্চু ভাই, পিপলু ভাই, অমিতাভ, জুলহাজরা হয়তো আমাদের বন্ধুদের ফোন দিয়ে যাচ্ছে ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির দাবিতে বিবৃতিতে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য। আর আমি ঘুমাবার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমার চোখের পাশ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। আমি কাত হয়ে শুয়ে, যাতে তিশা টের না পায়। ও আমার মেয়েকে ছড়া শোনাচ্ছে।

সব সময় তো এরকম হয় না যে, আমরা আমাদের জড়তাকে ঠেলে একটা কোনো উদ্যোগ নিতে পারি, এক সাথে। সেই হিসাবে আজকের দিনটা আমাদের দেশের শিল্পীদের জন্য একটা মনে রাখার মতো দিন। ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির দাবিতে ১৩০ জন শিল্পী একটা বিবৃতি দিয়েছেন, যেটা হয়তো কালকে পত্রিকায় দেখবেন সবাই। আপনি যদি নামের লিস্ট দেখেন, তাহলে বুঝবেন কেনো এটা আমাদের জন্য, আমাদের পরের জেনারেশনের জন্য একটা বিশেষ মানে বহন করে। এখানে এমন মানুষেরা আছেন যাদেরকে আপনি নিয়মিত বিবৃতিতে খুঁজে পাবেন না।

এখানে মূলধারা-বিকল্পধারা-নতুনধারা-পুরাতনধারা নানা মত-পথের মানুষ আছেন। আমাদের মত ভিন্ন হতে পারে, পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্নে আমরা এক। আমাদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে আমরা এক। এখন আমরা জানি, আমরা যখন এক হয়েছি, আর কোনো কিছুই আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না!

বিশ্বাস করি, আপিল কমিটি আগামী পরশু যে সভায় বসবে সেখানে তাদের সুবিবেচনার পরিচয় দিবে এবং দ্রুত ‘শনিবার বিকেল’ দর্শকদের কাছে যেতে পারবে। আমি আমার কলিগদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *