তখন বিকেল সাড়ে ৩টা, রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রধান ফটক থেকে মিলনায়তনে প্রবেশের কলাপসিবল গেট পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক সারি দর্শক-শ্রোতা দাঁড়িয়ে অপেক্ষায়। ৪টার দিকে খোলা হলো মিলনায়তনে প্রবেশের দরজা। টিকিট দেখিয়ে একে একে প্রবেশ করলেন তারা।
মিলনায়তনে প্রবেশ করতেই সবার চোখ আটকে যাচ্ছে মঞ্চের দিকে সেই কাঙ্ক্ষিত মুখে। তখনও শুরু হয়নি সংগীতানুষ্ঠান, বাদ্যযন্ত্রের টিউনিংয়ে ব্যস্ত কবীর সুমন। কয়েকমিনিট বাদে মঞ্চের পেছনে চলে গেলেন শিল্পী। আবারও অপেক্ষার পালা। দর্শক-শ্রোতা ঢুকছেন তখনও।
ঠিক সোয়া ৫টায় মঞ্চে এলেন সুমন। দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানালেন আধুনিক বাংলা গানের অন্যতম রূপকারকে। তিনিও হাতজোড় গ্রহণ করলেন দর্শকদের সেই উষ্ণ অভ্যর্থনা। সঙ্গে তার সফরসঙ্গী তিনজনকে পরিচয় করিয়ে দিলেন।
গান শুরু করার আগে ছোট্ট বক্তব্যে তিনি বললেন তার কিছু না পারার কথা। সুমনের ভাষায়, ‘এখন গিটার বাজাতে পারি না, এটা নিয়ে দুঃখ নেই। গুরুদের কৃপায় গাইতে পারি। এটাই আনন্দ।’
শরীরে বাসা বাঁধা দুটো রোগের কারণে এখন আর ঠিক মতো দাঁড়াতেও পারেন না এই গানওয়ালা। চলাচলের জন্য বসতে হয় চলন্ত চেয়ারে। সমস্যা হয় কোথাও একটানা বসে থাকলেও। সেটি মনে করিয়ে দিয়ে সুমন বললেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয় শুয়ে শুয়ে গান গাই!’
ছোট্ট বয়ান শেষে ধরলেন গান। শুরুতে শোনালেন ‘একেকটা দিন’। এরপর একে একে গেয়ে গেলেন ‘পুরানো সেই দিনের কথা’, ‘হাল ছেড়োনা বন্ধু’, ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’, যদি ভাবো কিনছো আমায়’।
ঠিক এই পর্যায়ে বিরতিতে গেলেন গানওয়ালা। যাবার আগে শোনালেন বাংলাদেশ নিয়ে অদ্ভুত এক অনুভূতির কথা। হাতের পাশে রাখা ইনহেলার দেখিয়ে বললেন, ‘ভয় পাবেন না, মরবো না। আমি এমন ভাগ্য করে জন্মাইনি যে, বাংলাদেশের মাটিতে মরবো।’
