একজনের ভুলের জন্য পুরো চলচ্চিত্র শিল্প ছোট হোক তা চাই না: ববিতা

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। যার শোকেজে সাজানো রয়েছে আট আটটি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। এছাড়া আছে ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’ ও ‘বাচসাস পুরস্কার’সহ অসংখ্য নামিদামি সম্মাননা। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন বহু সুপারহিট সিনেমা। আবার কিছু সিনেমা তিনি প্রযোজনাও করেছেন।

সেই গুণী অভিনেত্রী অভিনয় থেকে দূরে আছেন প্রায় আট বছর হলো। বর্তমানে তিনি কানাডায় প্রবাসী পুত্রের সঙ্গে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। কেমন কাটছে এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর সময়। দেশীয় চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাঁর অনুভূতি কী? এসব বিষয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন দেশীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।

তিনি বলেন, কানাডায় অনেক মজার সময় কাটছে। অনিকের সঙ্গে উইক অ্যান্ড এ ঘুরে বেড়াই। ও তো জব ও পড়াশোনা করছে। তাই বলতে গেলে সপ্তাহের এক দিন ছাড়া ওকে পাওয়া সম্ভব নয়। ছুটির দিনে কানাডার দর্শনীয় স্থানগুলোতে আনন্দ করে আমরা ঘুরে বেড়াই। আমার মাছ ধরার খুব শখ। সময় পেলেই মাছ ধরতে যাই। আমি যখন কানাডায় থাকি না তখন জব শেষ করে বাসায় ফিরে রান্নাবান্না করে খেতে ওর খুব কষ্ট হয়। এখানে তো কাজের লোক পাওয়া যায় না। নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়। তাই আমি যখনই আসি ওর জন্য ওর পছন্দের সব খাবার রান্না করি। ও খুব তৃপ্তি নিয়ে তা খায়। এতে আমার খুব খুশি লাগে।

অন্যদিকে আবার যুক্তরাষ্ট্রেও যাই। সেখানে আমার প্রবাসী দুই ভাই আছেন, তাঁদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাই। এ ছাড়া বাসার দৈনন্দিন কাজকর্ম, নামাজ, দোয়া, টিভি দেখা, বই পড়া- এসব নিয়েই সময় কেটে যাচ্ছে।

অভিনয় বা নির্মাণে ফেরার ব্যাপারে ববিতা বলেন, আমি তো বরাবরই বলে আসছি ভালো গল্প ও চরিত্রের অভাবে অভিনয় ছেড়েছি। এই দুটি যদি মনের মতো করে পাই তাহলে অভিনয়ে ফিরতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আর নির্মাণের চিন্তা আপাতত বাদ দিয়েছি। কারণ সিনেমা হল আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে, দর্শক সিনেমা হলে যায় না। এতে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত আসবে কোথা থেকে। লোকসান গুনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাব কেন।

তারকাদের গোপন প্রেম-বিয়ে-সন্তান এবং নেতৃত্ব নিয়ে চলচ্চিত্র জগতে একটা অস্থিরতা চলছে, এ বিষয়ে আপনার পরামর্শ কী?

দেখুন, তারকাদের গোপন প্রেম-বিয়ে-সন্তান- এসব তাঁদের একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। এসব আগেও ছিল। কিন্তু এসব নিয়ে আগে মিডিয়া এত মাতামাতি করত না। এখন তো ইউটিউবাররা এবং কিছু অখ্যাত অনলাইন পোর্টাল ভিউ বাড়াতে মানে নিজেদের স্বার্থে তিলকে তাল বানিয়ে শোবিজ তারকাদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। এ ব্যাপারে সরকারসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। আর শোবিজ জগতের বাসিন্দাদের নিজেদের মানসম্মান বজায় রেখে কাজ করতে হবে। কারণ, একজনের ভুলের জন্য পুরো চলচ্চিত্র শিল্প সবার চোখে ছোট হোক তা কেউ চায় না।

আর সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে বাড়াবাড়ি মোটেও পছন্দ করি না। কারণ সমিতি হলো সদস্যদের স্বার্থরক্ষার সংগঠন। কাজের পরিবর্তে নেতৃত্ব নিয়ে বাড়াবাড়ি করে এই শিল্পের উন্নতির পরিবর্তে অবনতিই অবধারিত। আমাদের সময় সমিতির চেয়ারে বসার জন্য এমন দ্বন্দ্ব সংঘাত কখনো দেখা যায়নি। কাজই ছিল সবার কাছে মুখ্য।

চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? তিনি বলেন, আমি সবসময় ইতিবাচক। এই জগৎটাকে ভালোবাসি। আমি চাই, আরও ভালো ভালো ছবি হবে। আমার কথা, এমন ছবি বানান যেগুলো বক্তব্যপূর্ণ ও সুন্দর হবে, আবার সমাজের জন্য বার্তাও থাকে; ব্যবসায়িকভাবেও সাফল্য পাবে। ভালো গল্প, স্ক্রিপ্ট, ডায়ালগ- সবকিছু মিলিয়ে যা হবে তাই ভালো সিনেমা। মানে এরকম নয় যে, শুধু ধুমধাড়াক্কাই হবে। সবমিলিয়েই ভালো ছবি বানাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *