প্রায় ৩ মাস ধরে এফডিসি আসেন না চিত্রনায়ক জায়েদ খান। অথচ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন প্রায় প্রতিদিনই তাকে পাওয়া যেতো এফডিসিতে।
এমনও সময় ছিল, এফডিসিতে কেউ না থাকলেও পাওয়া যেতো এই অতন্দ্র প্রহরীকে। এ নিয়ে অভিযোগও কম ওঠেনি তার বিরুদ্ধে। তবে এফডিসিকেন্দ্রিক জীবনের এমন সূচিতে আমূল বদল এনেছেন জায়েদ খান।
শিল্পী সমিতির সর্বশেষ নির্বাচনে নিপুণের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে বিতর্ক আর আইনি জটিলতায় একরকম ব্যাকফুটে আছেন এই নেতা-নায়ক। গত তিন মাসেরও বেশি সময় এফডিসিতে পা পড়েনি তার, দেখা যায়নি সিনেমার কোনও অনুষ্ঠানেও।
জানা গেছে, জায়েদ খান বর্তমানে তার জন্মস্থান পিরোজপুরে। কখনও তিনি নিজের পুকুরে মাছ ধরছেন, পথে পথে বৃক্ষরোপণ করছেন। আবার কখনও ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করছেন, জনসমুদ্রে হারিয়ে যাচ্ছেন পূজা উৎসবে। বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতেও দেখা গেছে তাকে। সোশাল হ্যান্ডেলে সেসব শেয়ারও করছেন হাসিমুখে।
তবে কি পিরোজপুরের ছেলে বাড়ি ফিরে গেলেন? নাকি সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদটি থেকে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে খানিকটা পিছু হটেছেন! দুটো সম্ভাবনাই এখন বাতাসে ভাসছে। ধারণা করা হচ্ছে, জায়েদ খান আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। মূলত সেই হোমওয়ার্কটাই সারছেন এখন।
এসব প্রশ্ন বা গুঞ্জনের জবাবে পিরোজপুর থেকে এই নায়ক একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমি নির্বাচন করছি না। এসব গুজব। ২৭ দিন হলো বাড়িতে এসেছি। আজ শিগগিরই ঢাকায় ফিরবো। ডাবিং বাকি আছে ‘সোনার চর’-এর। সেটা করবো। নতুন সিনেমার খবরও জানাবো।
তিনি বলেন, আমি গ্রামে চলে এসেছি, এটা শুনে অনেকেই হয়তো খুশি হয়েছেন। তাদের বলছি, খুশির কারণ নেই। আমি আসছি। আর যারা আমার গ্রামের সামাজিক কর্মকাণ্ড দেখে নির্বাচনের ভয় পেয়েছেন, তাদেরও বলছি, ভয়ের কারণ নেই। ইলেকশন আমি করছি না। করলেও সেটা ঢাকঢোল পিটিয়ে করবো। নির্বাচন তো লুকানোর কিছু না।
এই নায়ক-নেতা আরও বলেন, অনেক দিন বাড়ি আসা হয় না। আমার ভাইরাও ব্যস্ত। তাই এবার এসে বাবা-মায়ের ঘর-বাড়িটা গুছালাম। উনাদের কবরস্থান ঠিক করলাম। আমার একটা সংগঠন আছে ‘সাপোর্ট মানবকল্যাণ সংস্থা’। ওদের নিয়েও কিছু সামাজিক ও মানবিক কাজ করলাম এলাকায়। কারণ, আবার কবে বাড়ি আসবো তার তো ঠিক নেই। ফলে আমার গ্রামে আসা নিয়ে এত দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
