নাটক এখন সিন্ডিকেটের হাতে চলে গেছে: ডলি জহুর

দেশের প্রবীণ অভিনেত্রী ডলি জহুর। টিভি নাটক থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সব ক্ষেত্রেই সরব পদচারণা তার। তবে পর্দায় মা চরিত্রে বেশি দেখা যায় তাকে।

মা হিসেবে সাবলীল অভিনয়ে দিয়ে তিনি অসংখ্য দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন। নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন ডলি জহুর।

জানা যায়, বর্তমানে ডলি জহুরের বেশিরভাগ সময় কাটে বাসাতেই। বলেন, বয়স হয়েছে, তাই শরীরটা মাঝে মধ্যে বেঁকে বসে। এতে করে অভিনয় করাটা আগের মতো তেমন আর হয়ে ওঠে না। তাছাড়া অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে সরার আরও কারণ আছে।

কী সেই কারণ? জানতে চাইলেই তিনি বলেন, এখন অভিনয় করে মন ভরে না, মনের ক্ষুধা মিটে না। কারণ সত্তর, আশি কিংবা নব্বই দশকের মতো মানসম্মত নাটক এখন আর নির্মাণ হয় না। তাছাড়া নাটকে ক্যারেক্টার কমে গেছে। আমাদের মতো সিনিয়রদের কথা চিন্তা করে কোনো চরিত্রও রচিত হয় না। এখন তো এক জোড়া নায়ক-নায়িকা থাকলেই নাটক হয়ে যায়, ফলে দর্শক মন ভরাতে পারছে না এসব নাটক। এটা যেন একটা ট্রেন্ড চালু হয়ে গেছে।

এই অভিনেত্রী বলেন, পারিবারিক গল্প বলতে গেলে এখনকার নাটকে প্রায় উপেক্ষিত। আগে বিটিভিতে কত সুন্দর নাটক হতো। ৫০ থেকে ৫৫ মিনিটের এসব নাটক শুরু হলে শেষ পর্যন্ত চোখ ফেরানো যেত না। কোনো সিন বা ডায়ালগ যাতে মিস না হয় সেই উত্তেজনা কাজ করত। এখন তো ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো আর বের হওয়া, ব্যস এখানেই শেষ। নতুনরা কিছু আর শিখতে পারছে না।

এইসব দিন রাত্রি, বহুব্রীহি, সকাল-সন্ধ্যার মতো নাটক এখন কেন হচ্ছে না? জানতে চাইলে ডলি জহুর বলেন, কেন যে হচ্ছে না তা বলতে পারছি না। তবে শোনা কথা হলো নাটক নাকি এখন সিন্ডিকেটের হাতে চলে গেছে। তাই দর্শকের চাহিদা বরাবরই উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। ওই সময় আমরা তো অর্থের জন্য কাজ করতাম না, ভালো কিছু সৃষ্টির জন্যই কাজ করতাম। আমাদের কাজের মধ্যে আমরা যদি মান এবং নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরতে না পারি তাহলে সেই কাজের কোনো মানে হয় না।

এখনো কলকাতার বেলাশেষে, পোস্ত-এর মতো ছবি দেখতে বসলে শেষ না করে চোখ সরাতে পারি না। কি যে উন্নত গল্প, অভিনয়, আর নির্মাণ। ভোলার মতো নয়। একসময় আমাদের দেশের ‘এইসব দিন রাত্রি’সহ অন্য সব নাটক দেখে কলকাতার মানুষ আফসোস করে বলত তাদের দেশে কেন এমন নাটক হয় না। এটি ছিল আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আর এখন কী হচ্ছে? সেই সোনালি দিন সত্যিই হারিয়ে গেছে।

তাহলে আমাদের শোবিজ জগতের ভবিষ্যৎ কী? তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কী তা তো এখনই বলতে পারব না। অনেকটা রোদ-বৃষ্টির মতোই। যেমন গতকাল রাতে অঝোর ধারায় বৃষ্টি হয়েছিল, আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি কড়া রোদ। শোবিজ জগৎটা এখন এমনই হয়ে গেছে, কখনো রোদ কখনো বা বৃষ্টির মতো। কাল যে কী হবে কিছুই বোঝা যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *