এই মেয়ে এত বয়স হয়েছে, এখনো বিয়ে হয় নি? কোন রাজপুত্রের অপেক্ষায় বসে আছো শুনি!
ওমা! ডিভোর্স হয়ে গেছে? কিভাবে হল? আবার বিয়ে করছো না কেন??
আহারে, জামাই মারা গেছে? কিভাবে চলবে এখন? আবার বিয়ে করছ না কেন!!??
এত বছর হয়েছে বিয়ের, এখনো বাচ্চা হয় নি কেন?
মাত্র একটা বাচ্চা আপনার, আরেকটা নিচ্ছেন না কেন? নাকি হচ্ছে না?
তিন মেয়ে! ছেলে নাই? ছেলে বাচ্চার জন্য ট্রাই করছেন না কেন?
এতটুকু দুধের বাচ্চা ফেলে চাকরি করেন কেন??
এত পড়াশোনা করে বসে আছেন কেন? চাকরি করছেন না কেন?
বাহ! আপনি ঘরের বউকেও চাকরি করতে দেন? কেন নিজের কামাইতে চলে না বুঝি?
আরে, আপনার বউ কিছুই করে না!! আপনি নিশ্চয় করতে দেন না!! এটা কিন্তু ঠিক না।
আমাদের বাঙালি সমাজের মতো এমন অতি উৎসাহী, পরশ্রীকাতর জাতি এ ধরাতলে দ্বিতীয়টি নেই। এখানে তলাবিহীন ঝুড়ি কিংবা ঝাঁঝরও সুযোগ পেলে সুঁইকে বলে বসে, কিরে, তোর পিছনে ছিদ্র কেন? বেহুদা অন্যের পিছে লাগার মাঝে আমরা যেন স্বর্গীয় সুখানুভূতি লাভ করি! নাসার অত্যাধুনিক স্যাটেলাইটও আমাদের কিউরিসিটি লেভেলে রিচ করার সক্ষমতা রাখে না!
মোটা হলে জিজ্ঞেস করি, এত খাও কেন? শুকনা হলে বলি, খাওনা কেন? মোদ্দাকথা, অন্যের খুঁত ধরতে আর ফাও উপদেশ দিতে আমাদের জুরি মেলা ভার!
আমরা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন শিখছি… কিন্তু অন্যের ‘প্রাইভেসি’কে যে সম্মান করতে হয়, কারো ‘পারসোনাল লাইফ’ এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি যে মিনিমাম রেসপেক্ট থাকা আবশ্যক, সে শিক্ষাটা এখনো ঠিকঠাক রপ্ত করতে পারিনি!
(ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ফেসবুক থেকে নেওয়া)
