এবার ফারুকীর পাশে দাঁড়ালেন আফজাল হোসেন

প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সেন্সর বোর্ডে পড়ে আছে ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি। কিন্তু কোন কারণে সিনেমাটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না তা জানানো হয়নি।

সম্প্রতি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি দিতে সরব হয়েছেন দেশের নির্মাতা, অভিনেতা ও কলাকুশলীরা। সামাজিকমাধ্যমে ‘শনিবার বিকেল’র ছাড়পত্র দিতে সেন্সর বোর্ডের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সিনেমাটি আটকে থাকায় সমালোচনা ও প্রতিবাদও করছেন অনেকে।

সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন কিংবদন্তি অভিনেতা আফজাল হোসেন। মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) নিজের ফেসবুকে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর একটি ছবি শেয়ার করেন তিনি। এর ক্যাপশনে সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা ‘শনিবার বিকেল’ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।

লেখার শুরুতে এই শিল্পী বলেন, ‘মোস্তফা সরয়ার ফারুকী অত্যন্ত প্রতিভাবান চলচ্চিত্র নির্মাতা। বিরাট পৃথিবীর চলচ্চিত্র উঠোনে তার চলচ্চিত্র নিয়ে আগ্রহ তৈরী হয়েছে। এমন অর্জনের জন্য বিশেষ যোগ্যতা থাকতে হয়। এই বিশেষ যোগ্যতা তরুণ প্রজন্মের অনেকের রয়েছে বলে বাংলাদেশের নাম বহু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সগৌরবে উচ্চারিত হয়।’

‘মুখে মুখে দেশপ্রেম, দেশ নিয়ে গৌরবের কথা বলতে আমাদের বেশ ভালো লাগে। যাদের ভালো লাগে, তারা নিশ্চয় এটাও বুঝি- আমাদের দেশের মানুষ সংগ্রামী, সচেতন এবং সৃষ্টিশীল। এ ধারণা দুনিয়ার মানুষ যত বেশি জানতে পারবে- দেশ, দেশের মানুষ ততই সম্মানিত, বিশেষ হয়ে উঠবে। চলচ্চিত্র, সংগীত, শিল্প সাহিত্য, সংস্কৃতির শক্তিতেই দেশ ও দেশের মানুষ কতখানি সমৃদ্ধ তার প্রমাণ মেলে।’ বলেন আফজাল হোসেন।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মিত ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার বিষয়টি উল্লেখ করে আফজাল হোসেন বলেন, ‘‘ফারুকীর চলচ্চিত্র ‘শনিবার বিকেল’ অনেকদিন ধরে আটকা পড়ে আছে। শিল্পের বেলায় আটক শব্দটা খুব বিচ্ছিরি ঠেকে। শিল্পী আঁকবার সময়, লিখতে বসে বা চিত্রনির্মাণের আগে যদি নির্মাতাকে আটকানো মানুষদের চেহারা ভেবে নিতে হয়- তা দুর্ভাগ্য ও দুর্ভোগের।’’

দীলিপ কুমারের একটি ঘটনা উল্লেখ করে আফজাল হোসেন বলেন, ‘ফারুকীর মন ভালো নেই। অভিনেতা দিলীপ কুমারেরও একদা মনখারাপ হয়েছিল। সে শোনা গল্পটা বলি, দিলীপ কুমার ‘গঙ্গা যমুনা’ বানিয়েছিলেন ১৯৬১ সনে। এটিই তার প্রথম প্রযোজিত সিনেমা। নিজের লেখা কাহিনি, নীতিন বোসের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালনাও করেছিলেন। ‘গঙ্গা যমুনা’ দুই ভাইয়ের গল্প। দুজনের একজন, গঙ্গা- ছিল ডাকাত। ডাকাত চরিত্রটির ভাষা শুনে তখনকার ভারতীয় সেন্সর বোর্ড বেঁকে বসে। তারা ভেবেছিলেন এ সিনেমা মুক্তি পেলে হিন্দি ভাষার মহাসর্বনাশ হয়ে যাবে। দিলীপ কুমার তখন মহাতারকা। তাতে কি, বেচারা বনে গেলেন সিনেমা প্রযোজনা করে। কয়েক মাস ধরে শত প্রকার চেষ্টার পরও কোনো লাভ হচ্ছে না বুঝে যোগাযোগ করেন ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে। ইন্দিরা প্রধানমন্ত্রীর কন্যা। সে পরিচয় ছাড়াও নিজের আলাদা একটা অস্তিত্ব তখন গড়ে তুলেছেন। তার সাথে দেখা ও আলাপ আলোচনায় কাজ হয়।’

‘গঙ্গা যমুনা’ সিনেমাটি মুক্তির পর হিন্দি ভাষার কোনো ক্ষতি হয়নি। তা জানিয়ে এই শিল্পী বলেন, ‘‘মুক্তির পর থেকে আজ অবধি ভারতীয় চলচ্চিত্রের তালিকায় ‘গঙ্গা যমুনা’ বিশেষ হয়ে আছে। হিন্দি ভাষার কোনো ক্ষতি এ চলচ্চিত্রের দ্বারা ঘটেনি। জগতে স্বপ্ন দেখার মানুষ আছে, আছে দুঃস্বপ্ন দেখা, দেখানোর মানুষও। যে মানুষ স্বপ্ন দেখে- দেখতে চায়, দেখা উপভোগ করে বলে দেখতে পায়। ভয়, দুশ্চিন্তায় কাটানো মানুষের দিন ও রাত দুঃস্বপ্নে কাটবারই কথা।’’

সৃষ্টিকর্তাকে খুব কৌতুকপ্রিয় মনে হয় আফজাল হোসেনের কাছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তাকে খুব কৌতুকপ্রিয় মনে হয়। দুনিয়ার সকলের মধ্যে তিনি স্বপ্ন দেখবার সাধ্য দিতে পারতেন; দেননি। দাবার ছকের মতো সাদা কালোকে মুখোমুখি রেখেছেন। তবে সান্ত্বনা ও আনন্দের কথা এই- কোনো সৃজনশীল মানুষ দ্বারা কখনই মানুষের অনিষ্ট ঘটাননি। সৃজন দ্বারা চিরকালই মানুষের উপকার হয়েছে।’

জাজ মাল্টিমিডিয়া, ছবিয়াল ও ট্যানডেম প্রোডাকশন প্রযোজিত ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ১২টি দেশের স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পীরা। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন—ফিলিস্তিনের অভিনেতা ইয়াদ হুরানি, ইউরোপের এলি পুসো, সেলিনা ব্ল্যাক, বাংলাদেশি অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, জাহিদ হাসান, মামুনুর রশীদ, ভারতের পরমব্রত চ্যাটার্জি প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *