এশিয়া কাপের গত দুই আসরেই ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। তবে ছন্দহীন টাইগারদের নিয়ে এবার খুব এটা আশাবাদী হতে পারছেন না ভক্ত-সমর্থকরা। ৩০শে আগস্ট আফগানিস্তান ম্যাচ দিয়ে এশিয়া কাপ মিশনে নামবে সাকিব আল হাসানের দল। টুর্নামেন্ট সামনে রেখে কঠোর অনুশীলন করে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা।
ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন লিটন কুমার দাস। নুরুল হাসান সোহানও শঙ্কায়। দলে নেই ভালোমানের হার্ডহিটার। প্রশ্নই উঠছে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া কাপে কতোটা ভালো করতে পারবে বাংলাদেশ? তবে সাকিব তার দল নিয়ে আশাবাদী।
আজ মিরপুরে সাংবাদিকদের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বলেন, ‘এখন আমার কাছে তেল নেই, তেল দিয়ে কী করতে পারি সেটা চিন্তা করে লাভ নেই। আমার কাছে আছে গ্যাস, গ্যাস দিয়ে কী কী করা যাবে সেটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি আমাদের শক্তিমত্তার সঠিক ব্যবহার করতে পারি, আমি বিশ্বাস করি আমরা ভালো দল।’
এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলাটা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে উল্লেখ করে অধিনায়কের বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপের দুই ম্যাচ জয়। সাকিব বলেন, ‘(ফাইনাল) আমাদের জন্য কঠিন। বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা যদি দুইটা ম্যাচ ভালো করতে পারি, বা আগের দুই বছর যেমন ক্রিকেট খেলেছি বা শেষ কয়েকটা সিরিজ খেলছি, তাতে উন্নতির ছাপ রাখতে পারলে সেটা এ টুর্নামেন্টে আমাদের জন্য অর্জন।’
বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এ টি-টোয়েন্টি তারকা আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য অর্জন হবে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা ব্যবহার করা ও ধারাবাহিক দলে পরিণত হওয়া।
এক প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ’আমাদেরকে প্রত্যেককে আলাদা করে বলে দেয়ার কিছু নেই। আমরা ফোর-ফাইভের স্টুডেন্ট না যে আমাদের সব শিখিয়ে দিতে হবে। ওই জায়গায় আমরা আসলে নেই। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
এশিয়া কাপ শুরু হয়ে যাবে আগামী শনিবার থেকে। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে রয়েছে দুই মাসের মতো সময়। এ সময়ের মধ্যে আমূল পরিবর্তনের ভাবনা নেই সাকিবের। তবে সময়ের পুরোটা কাজে লাগিয়ে যতটা সম্ভব উন্নতির বার্তা দিলেন টাইগার অধিনায়ক।
তার ভাষ্য, ‘আমাদের কাছে এখন দুই-আড়াই মাস সময় আছে। এখন দেখার বিষয়, এ সময়ের মধ্যে কতটুকু উন্নতি করতে পারি। কিছু বিষয় আমাদের পক্ষে থাকবে না, ইনজুরির সমস্যাও আছে। এটা সবসময়ই হবে, সবকিছু পক্ষে থাকবে না। এই প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা কীভাবে উন্নতি করতে পারি সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’
সাকিব আরও যোগ করেন, ‘আমি বলছি না যে, খেলার ধরনটা খুব একটা বদলে ফেলতে হবে। আমরা চাইলেই আমাদের শরীরটা বড় করে ফেলতে পারবো না। তবে আমাদের হাতে যে শক্তিসামর্থ্য রয়েছে সেটা কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।’
ওয়ানডেতে ভালো কিন্তু টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে এখনও দুর্বল বাংলাদেশ। আর দুর্বল দুই ফরম্যাটের দায়িত্বই দেয়া হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। এর কারণ প্রসঙ্গে হেসে সাকিব জানালেন, পাপন ভাই আমাকে চাপে রাখতে চান। সেজন্যই বোধহয় আমাকে এই দুই ফরম্যাটের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে বোর্ড হয়তো ভেবেছে, এই চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য সম্ভাব্য সেরা অপশন আমি। এ কারণেই তারা আমাকে বেছে নিয়েছে।
