নজর২৪ ডেস্ক- সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যু ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ (বরখাস্ত) এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াকে সোমবার (৯ নভেম্বর) গ্রেফতার করা হয়েছে। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ৩০ দিনের মাথায় ভারতে পালানোর সময় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ।
এদিকে, আকবরকে ধরার খবরে রায়হান আহমদের যুক্তরাজ্য প্রবাসী বোন রুবা আক্তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলা-ভাষী স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলকে বলেন- কী জন্য তারা আমার ভাইকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করলো? এভাবে কোনো মানুষ কাউকে হত্যা করতে পারে? আজ একটি ভিডিওতে দেখলাম, আটকের পর আকবর বলছে- আমাকে মেরো না। আমার ভাই হয়তো সেদিন এভাবেই তার কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিলো। হয়তো আমার ভাই বলেছিলো- আমাকে মেরো না, আমার একটি ছোট বাচ্চা আছে। আমি ভালো মানুষ। কিন্তু সে আমার ভাইকে রেহাই দেয়নি।
রুবা আক্তার বলেন, আজ যদি আকবরকে আমি পেতাম তবে কীভাবে যে ওকে মারতাম, তা ভাষায় বলতে পারছি না। কীভাবে যে ওকে টরচারিং করতাম…।
এসব কথা বলার পরই কান্নায ভেঙে পড়েন অকালে ভাই হারানো রুবা আক্তার।
প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।
ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।
এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন। মামলাটি পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
