কোনও স্ত্রীর কাছেই নয়, ভাইয়ের কাছে রুবেলের মরদেহ হস্তান্তর

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট- বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে ভায়াডাক্টের অংশ বা বক্স গার্ডার প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে নিহত ৫ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টায় তিনটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ মরদেহ নিয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গ ত্যাগ করে।

অবশ্য ময়নাতদন্ত করার পর মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দেয় হাসপাতালে। সেখানে দুর্ঘটনায় নিহত আইয়ুব আলী হোসেন রুবেলের মরদেহ নিতে একে একে হাজির হন তার স্ত্রী দাবিদার পাঁচ নারী।

তবে শেষ পর্যন্ত তাদের কাউকেই রুবেলের মরদেহ দেয়া হয়নি। সমঝোতার ভিত্তিতেই শেষপর্যন্ত মরদেহ বুঝে দেয়া হয় রুবেলের ভাই জিয়ার কাছে। মরদেহ এরপর পাঠানো হয় তার গ্রামের বাড়িতে।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া রুবেলের ছেলে হৃদয়ের খালাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা রুবেলের মরদেহ বুঝে নিয়েছেন। মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাকে সমাহিত করা হবে।’

রুবেল হোসেনের বোন রেহেনা খাতুন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমার ভাইয়ের দুই স্ত্রী। বাকি স্ত্রীরা নিজের স্বামী দাবি করলেও তারা বিয়ের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাই দ্বিতীয় স্ত্রী ও আমার ভাইয়ের হাতে রুবেলের লাশ তুলে দিয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে আমার ভাই ও দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মীয় স্বজন মিলে অ্যাম্বুলেন্স যোগে লাশ নিয়ে মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে আমার ভাই যেহেতু মানিকগঞ্জের সিংরায় থাকতেন। তাই রাতে সেখানে প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। ভোরের দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে লাশটি পৌঁছাবে। সকালের ২য় জানাযা শেষে গ্রামের কবরস্থানে রুবেলের লাশ দাফন করা হবে। লাশ পৌঁছানোর পর জানাযার সময় নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

রুবেলের মরদেহ নিয়ে ‘টানাটানি’

নিহত রুবেল হাসানের সাতটি বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে। রুবেলের স্ত্রী দাবি করে মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী মর্গে আসেন সালমা আক্তার পুতুল, নারগিস বেগম, রেহেনা বেগম, শাহিদা বেগম ও তাসলিমা আক্তার লতা। তাদের মধ্যে শাহিদার বাড়ি মানিকগঞ্জে। লতা গাজীপুরের। পুতুল মিরপুর ১০-এর। আর নারগিস ঢাকার দোহারের। এই পাঁচজনই মর্গের সামনে এসে মরদেহ দাবি করছেন। আরেকজনের নাম লিপি। তিনি মারা গেছেন। এ ছাড়া বাকি একজনের নাম জানা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *