সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটতে যাচ্ছে। ক্রিকেট বোর্ডের কড়া হুঁশিয়ারির পর বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথমে মৌখিকভাবে বেটউইনারের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের কথা জানান সাকিব। বিসিবির শর্ত মেনে পরে বিষয়টি চিঠি দিয়ে জানান তিনি। চিঠিতে চুক্তি বাতিল করার কথা উল্লেখ করেছেন সাকিব।
সাকিবের চিঠি পাওয়ার খবর নিশ্চিত করে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেছেন, ‘ও (সাকিব) আমাদেরকে চিঠি দিয়েছে। বেটউইনারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার চিঠি আমাদের দিয়েছে।’
সাকিবের চিঠি পেয়ে ক্রিকেট বোর্ডে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে বোর্ডকে কিছু না জানিয়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে নিয়ম ভাঙার অপরাধে সাজা হবে না সাকিবের? এ প্রশ্নে জালাল ইউনুস বলেন, ‘অভিযোগের ব্যাপারটা তো পরে আসবে। আমরা তাকে একটা চিঠি দিয়েছিলাম চুক্তি বাতিল করার জন্য। এখন সে সেটা করে আমাদের জানিয়েছে এবং চিঠি দিয়েছে।’
বেটউইনার নিউজের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কয়েকদিন আগে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন সাকিব। পোস্টটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ৪ আগস্ট বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে এ ইস্যুতে পাপনের কাছে জানতে চাওয়া হলে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রকৃত ঘটনা জানার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
বেটউইনার নিউজের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিসিবি থেকে চিঠি দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে বলা হয় সাকিবকে। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস ফোনে ৩৫ বছর বয়সী এ ক্রিকেটারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও ১০ কোটি টাকার চুক্তি বহাল রাখার ব্যাপারে অটল ছিলেন।
সাকিব অনড় থাকায় বিসিবিও কঠোর অবস্থান নেয়। সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘আর সাকিব ইস্যুতে দ্বিতীয় কোনো চিন্তা করার সুযোগ নেই। বিসিবি প্রথম দিকের মতো অটলই আছে। এসব ইস্যুতে জিরো টলারেন্স। কোনোভাবেই বিসিবি এগুলো গ্রহণ করবে না। যে যেভাবেই এটাকে ব্যাখ্যা দিক বা না দিক।’
চুক্তি বাতিল না করলে দেশের ক্রিকেটে আজীবন নিষিদ্ধেরও ইঙ্গিত দেন বিসিবি সভাপতি পাপন। তবে সন্ধ্যায় চুক্তি বাতিলের চিঠি দেওয়ায় সাকিবকে এশিয়া কাপের দলে নিতে কোনো বাধা থাকল না। এশিয়া কাপ দিয়ে টি২০ দলের নেতৃত্বেও ফিরছেন তিনি।
