রিকশা চালানোর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, জানালেন তানজিন তিশা

একটি তরুণী, পরনে খুব সাধারণ একটি সালোয়ার কামিজ, মলিন চেহারায় বসে আছেন রিকশার চালকের আসনে। দু’পায়ের শক্তিতে ঘোরাচ্ছেন প্যাডেল। প্রথম দেখায় অনেকেই চিনতে পারবেন না। কিন্তু খেয়াল করলে বোঝা যায়, ইনি আসলে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা।

কিন্তু তিশার এই হাল কেন? আসলে নাটকের প্রয়োজনেই এমন বেশভূষা ধারণ করেছেন তিনি। নাটকটির নাম ‘রিকশা গার্ল’। এতে একজন রিকশা চালক তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি।

আহমেদ তাওকীরের রচনায় এটি নির্মাণ করেছেন রাফাত মজুমদার রিংকু। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, শিখা একজন সংগ্রামী নারী। এই শহরে তার অন্য এক জীবন, ভিন্ন রকম বেঁচে থাকা। শহরের কোনো এক বস্তিতে ছোট বোন পরীকে নিয়ে তার সংসার। প্রতিদিন সে তার রিকশা নিয়ে কাজে যায়। তবে শিখার রিকশা চালানোর পেছনে লুকিয়ে আছে রেজাউল নামের অন্য এক মানুষের গল্প।

শিখা কাজের ফাঁকে কাকে যেন খুঁজে ফেরে। তখন পরী বাসায় একা থাকে। আর রুমের দরজা বাইরে থেকে তালা দেওয়া থাকে। তখন বস্তির রানু খালা কাজের ফাঁকে খেয়াল রাখে পরীর। অন্যদিকে শহরে রিকশা চালাতে গিয়ে শিখা প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। সবাই তার দিকে এমনভাবে তাকায়, যেন সে চিড়িয়াখানার প্রাণী!

প্রথমবার এমন একটি কাজ করলেন। চালালেন রিকশা। অভিজ্ঞতা কেমন? তানজিন তিশা বলছেন, ‘নাটকের শিখা চরিত্র একটা বোধের জায়গা থেকে করা। সমাজের শ্রমজীবী নারীদের জীবন কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে এ নাটকে। এটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি কাজ, একই সঙ্গে কোরবানি ঈদের অন্যতম একটি নাটক হতে যাচ্ছে। এই শহরের চেনা-অচেনা জায়গায় তানজিন তিশা থেকে বেরিয়ে এসে আমি রিকশার প্যাডালে পা দিয়েছি। চালিয়েছি রিকশা। আমি বুঝেছি এটা কষ্টকর কাজ, এই কষ্টকর কাজ মানুষ দিনের পর দিন করে যাচ্ছে। আর একটি মেয়ে যখন এই কাজ করে তার জন্য তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা, এই প্রতিকূলতা পরিবেশ। ’

নাটকটি নির্মাণ করেছেন রাফাত মজুমদার রিঙ্কু। মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এমন কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন বলে জানালেন তিনি। যেসব গল্প চোখের সামনে দেখা যায়, চোখের সামনে ভাসমান সেসব গল্প বা সেসব চরিত্রকে পর্দায় তুলে ধরতে পছন্দ করেন রিংকু।

বললেন, ‘এমন গল্প নির্মাণে আমি অন্য রকম আনন্দ পাই। চারপাশের চেনাজানা চরিত্রগুলোর গল্প বলার মধ্যে অনেকের জীবনের ছবি দেখতে পাই! যাদের কথা কেউ বলে না, সেই কথাগুলো আমি তুলে ধরতে চাই! বলতে পারেন মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে এই নাটকটি পরিচালনা করা।’

ঈদুল আজহায় নাটকটি আরটিভিতে প্রচার হবে বলে জানান নির্মাতা রিংকু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *