আমাদের ছবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তি দিতে হবে: কাজী হায়াৎ

প্রায় পাঁচ দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে আছেন নির্মাতা কাজী হায়াৎ। অসংখ্য ব্লকবাস্টার, কালজয়ী ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্রের নানা উত্থান পতনের জীবন্ত সাক্ষী কাজী হায়াৎ। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি কেমন দেখছেন এই দাপুটে নির্মাতা?

এ নিয়ে সম্প্রতি এক জাতীয় দৈনিককে জানান, চলচ্চিত্র জগতের ভঙ্গুর অবস্থা দেখে মানসিকভাবে ভালো নেই তিনি। কাজী হায়াৎ বলেন, এই শিল্পের এমন দুরবস্থা হওয়ার কথা নয়। অপরিপক্ব কাজ ও চিন্তাই এর জন্য দায়ী বলে মনে করি।

অপরিপক্ব কাজের ব্যাখ্যা দিয়ে গুণী এই অভিনেতা বলেন, আমি বলব একটি ছবি নির্মাণ করতে গেলে ক্যারেক্টার অনুযায়ী প্রপার আর্টিস্ট নিতে হবে। অথচ এখন তা হচ্ছে না। অনেক নির্মাতা এখন এমন সব আর্টিস্ট নিয়ে কাজ করছেন যাঁরা সেই চরিত্রটি নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারছেন না। একই সঙ্গে এসব নির্মাতাও তাঁদের কাছ থেকে প্রপারলি কাজটি আদায় করে নিতে পারছেন না।

‘এছাড়া আরও কারণ আছে, যেমন গল্প ও ভাষা যথাযথ হচ্ছে না। নাটকে ব্যবহার করা আঞ্চলিক ভাষার মতো ভাষা ছবিতে ব্যবহার করে দর্শকের মনে বিরক্তি উৎপাদন করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে চলচ্চিত্র ও নাটকের ভাষা কিন্তু এক নয়।’

তিনি বলেন, এখন অল্প শিক্ষিত আনকোরা নির্মাতাদের হাতে পড়ে সিনেমার ভাষা হয়ে গেছে ‘সোজা ভাষা’, যা দর্শক গ্রহণ করতে পারছে না বলেই এসব ছবি চলছে না। দর্শকেরও দেশীয় ছবির প্রতি অনাগ্রহ বাড়ছে। আগের মতো সাম্প্রতিক সময় একানাগাড়ে বেশকটি ছবির ব্যর্থতার কারণ এসবই।

এ অবস্থার উন্নতি কীভাবে সম্ভব? কাজী হায়াৎ বলেন, উন্নতির পথ কঠিন কিছু নয়, চলচ্চিত্র সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান আহরণ করে প্রপারলি চলচ্চিত্রের ভাষায় ছবি নির্মাণ করতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বিদেশি ছবি আমদানি করে ছবির সংকট কাটানো সম্ভব কি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদেশি ছবি আমদানিতে কোনো ক্ষতি নেই। বরং লাভ আছে, কারণ এতে প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে প্রকৃত নির্মাতারাই টিকে থাকবেন এবং মানসম্মত ছবি নির্মাণ হবে। তবে এর আগে নিজেদেরই বিগ বাজেটের ভালো ছবি নির্মাণের চেষ্টা করতে হবে। শুধু বিদেশি ছবির ওপর নির্ভরশীল হলে তো সংকট কাটবে না।

কিন্তু সিনেমা হল খুবই স্বল্প, বিগ বাজেটের ছবি নির্মাণ কীভাবে সম্ভব? এমন প্রশ্নের উত্তরে কাজী হায়াৎ বলেন, বর্তমান সময় বিশ্বের কোথাও শুধু সিনেমা হলের ওপর চলচ্চিত্র শিল্প নির্ভর করে না। সিনেমা চালানোর অনেক পথ তৈরি হয়েছে। যেমন- স্যাটেলাইট রাইট, অনলাইন প্ল্যাটফরম এবং ইউটিউব। এছাড়া আরও অনেক পথ রয়েছে, যেখান থেকে সিনেমা হলের পাশাপাশি বড় অঙ্কের আয় করা সম্ভব।

একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের মতো আমাদের ছবিও যদি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে বিগ বাজেটের ছবি নির্মাণ করে লোকসান কেন গুনতে হবে। বিগ বাজেটের ছবি নির্মাণে এ দেশের করপোরেট হাউসগুলো এগিয়ে এলে বড় মাপের বিনিয়োগের আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *