পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে যারা সংশয় প্রকাশ করেছেন তাদের বেশিরভাগই আমন্ত্রণ পাচ্ছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। শুধু তাই নয়, পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের তরফে যার দিকে ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে বড় অভিযোগ সেই গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে সেতু বিভাগ। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি শনিবারের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ড. ইউনূসকে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জমকালো আয়োজনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেছেন।
এদিকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস যাবেন কি না জানতে চাইলে ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদ গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়ে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন। এরপর হয়তো সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই মুহূর্তে দেশে আছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন লামিয়া মোর্শেদ।
সেতু বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিদেশি কূটনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক। পাশাপাশি সেতু নির্মাণে কাজ করা বিদেশি কর্মীদেরও থাকতে বলা হয়েছে।
ইউনূসকে সেতু উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানালেও গত কয়েক দিনে তার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সরকারপ্রধান বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন, পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার ঘটনায় ড. ইউনূসসহ বেশ কয়েকজন ষড়যন্ত্রে জড়িত।
তবে সেতু উদ্বোধনের তিন দিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছেন, তাদের প্রতি তিনি আর কোনো রাগ পুষে নেই। তারা নিজে থেকেই একদিন উপলব্ধি করবে বলে আশাবাদী তিনি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকায় ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণ কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বসে সেতুর প্রথম স্প্যান। এর পাঁচ বছরের মাথায় সেতু নির্মাণ শেষ হয়। আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন।
