বাবা যা বলে আমি তা-ই করি: মারুফ

২০০২ সালে ‘ইতিহাস’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। পরিচালনায় ছিলেন তার বাবা বরেণ্য অভিনেতা ও নির্মাতা কাজী হায়াৎ। সিনেমাটি সফল হয়েছিল, তিনিও পেয়েছিলেন জনপ্রিয়তা।

এমনকি সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও জিতে নেন। এরপর আরও বহু সিনেমায় অভিনয় করে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করে নেন।

বলছি চিত্রনায়ক কাজী মারুফের কথা। একসময়ের তুমুল ব্যস্ত এই নায়ক এখন সিনেমায় কাজ করেন না। স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। দেশ ছেড়ে মার্কিন মুলুকে স্থায়ী হয়েছেন কী কারণে? প্রবাসে কেমনই বা আছেন তিনি? এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খায় দর্শকের মনে।

এবার মারুফ নিজেই দিলেন জবাব। সম্প্রতি নানা বিষয় নিয়ে অনলাইন এক আড্ডায় জানিয়েছেন তার অবস্থা সম্পর্কে।

পরিবার নিয়ে প্রবাস যাপন করছেন। সব মিলিয়ে কেমন আছেন?
পরিবারের সবাইকে নিয়ে আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি। তবে পীড়া দিচ্ছে, সিলেট বন্যার পানিতে ডুবে গেছে, সেখানের মানুষ কষ্টে আছে! দেশের মানুষ কষ্টে থাকলে তো খারাপ লাগেই।

আপনার ‘গ্রিনকার্ড’ সিনেমাটি কবে নাগাদ পর্দায় আসবে?
সিনেমাটির শুটিং শেষ করেছি। আমার ডাবিংও শেষ হয়েছে, কিন্তু দু-তিনজন আর্টিস্টের ডাবিং বাকি রয়েছে। সেটা শেষ করে আশা করছি আগামী মাসেই বাংলাদেশে নিয়ে যেতে পারব। আসলে ছবিটি আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্নে লালিত। জান-প্রাণ দিয়ে করার চেষ্টা করছি। আমার বিশ্বাস দর্শকদের ভালো কিছু দিতে পারব।

অনেকেই বলেন, সিনেমা মুক্তি না দিতে পেরে দেশ ছেড়েছেন! বিষয়টি নিয়ে আপনি কী বলবেন?
বিয়ের পর আমার বউ অনেকবারই আমেরিকা আসার কথা বলেছে। কিন্তু আমি কখনোই আসতে চাইনি। তবে একটি ঘটনার পর আমার আব্বা আমাকে বললেন, চলে যাও, আর দেশে থেকো না। ‘ছিন্নমূল’ সিনেমাটি জাজ মাল্টিমিডিয়া রিলিজ করতে দিচ্ছিল না। কাকরাইল থেকে সেই যে চোখের জল ফেলে এসেছি আর কখনো যাইনি।

আমি জানি সিনেমাটি লস করবে, তবু খারাপ দিনে রিলিজ দিকে বাধ্য হয়েছিলাম। তখন বাবা বললেন, এই বয়সে আর যুদ্ধ করতে চাই না, আমেরিকা চলে যাও আর এসো না। আমার বাবা যা বলে আমি তা-ই করি। তবে আমেরিকা দূর থেকে অনেক সুন্দর কিন্তু ভেতরটা কী। এই বিষয়টি আমার গ্রিনকার্ড সিনেমায়ও দেখতে পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *