গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে কাদা ছোড়াছোড়ির অন্ত ছিলো না। একে এপরকে দোষারোপ করতে দ্বিধা করেননি কোনো শিল্পী। শেষ পর্যন্ত তা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। চলচ্চিত্র মহলের অনেকেই বলেছেন, শিল্পীদের এই নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষ বিরক্ত।
এই রেষ কাটতে না কাটতেই সামনে এলো চিত্রনায়ক ওমর সানী ও জায়েদ খানের থা’প্পড়-পি’স্তলকান্ড। এই ইস্যুতে তোলপাড় পুরো দেশ। এ ঘটনা নিয়েও বিরক্ত চলচ্চিত্র শিল্পীরা।
অভিনেতা ও প্রযোজক সোহেল রানা বলেন, শুধু অভিযোগ শুনছি। সত্যিই কি এমন ঘটনা ওমর সানী ও জায়েদ খানের মধ্যে ঘটেছিল বিয়ের অনুষ্ঠানে? যদি সত্যি হয়, তাহলে ন্যক্কারজনক। সত্য উদ্ঘাটন করা দরকার। মানুষের দুই রকম মৃ’ত্যু হয়, শারীরিক মৃ’ত্যু ও মানসিক মৃ’ত্যু। আমাদের ফিল্মের অবস্থাও তা-ই হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, সবার আগে আমাদের ভালো মানুষ হতে হবে। শিল্পীদের মানুষ অন্ধের মতো ভালোবাসে। চোখ বুঝে ফ্যান হয়ে যায়। শিল্পীর নামে নিজের ছেলে-মেয়ের নাম রাখে। শিল্পীর কাজকে ভালোবেসেই মানুষ তাদের ওই উচ্চতায় রাখে। তাই ব্যক্তিগত ভেদাভেদে পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে কলুষিত করা ঠিক নয়। জীবদ্দশায় কেউ যদি মরে যায়, তাহলে তো সমস্যা বাড়বেই।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১০ জুন) রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে খল অভিনেতা ডিপজলের ছেলের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় অংশ নেন সিনেমা অঙ্গনের অনেকে। সেখানে ছিলেন ওমর সানী ও জায়েদ খানও।
সানী দাবি করেন, মৌসুমীকে দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত করে আসছেন জায়েদ খান। সে কারণে ডিপজলের অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি জায়েদকে চড় মারেন। বিপরীতে জায়েদ পি’স্তল বের করে সানীকে গু’লির হু’মকি দেন। যদিও ঘটনাটি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন জায়েদ খান।
এদিকে মৌসুমীকে কেন্দ্র করে ওমর সানী ও জায়েদ খানের লড়াই নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকটা বিরক্ত মৌসুমী। তিনি বলেন, ‘কেন এই প্রশ্নটা বারবার আসছে, সে আমাকে বিরক্ত করছে-উত্ত্যক্ত করছে, এই জিনিসটা আমার আসলে… জানি না এটা কেন হচ্ছে। এটা যদিও একান্ত আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যা। সে সমস্যা আমাদের পারিবারিকভাবেই সমাধান করা দরকার ছিল।’
জায়েদ খানকে ‘ভালো ছেলে’ আখ্যা দিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘আমাকে ছোট করার মধ্যে, যাকে আমরা অনেক শ্রদ্ধা করে আসছি সেই ওমর সানী ভাই, তিনি কেন এত আনন্দ পাচ্ছেন- সেটা আমি বুঝতে পারছি না। আমার কোনো সমস্যা থাকলে অবশ্যই আমার সঙ্গে সমাধান করবে, সেটিই আমি আশা করি।’
মৌসুমী তার বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জায়েদ খান তাকে কখনো বিরক্ত কিংবা অসম্মান করেননি। ফলে স্ত্রীর জন্য প্রতিবাদ করতে গিয়ে ওমর সানী নিজেই অপরাধী বনে গেলেন!
