শিল্পী সমিতি কেন উপহার দেবে, প্রশ্ন ইলিয়াস কাঞ্চনের

একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। বর্তমানে যিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচনে জিতে তিনি এ পদে আসীন হয়েছেন। তবে শিল্পীদের নেতা হয়ে মোটেই স্বস্তিতে নেই ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র নায়ক। শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির কার্যক্রম নিয়ে কয়েকজন সাধারণ সদস্যের অভিযোগে ভিষণ ক্ষুব্ধ তিনি।

গত ১৪ এপ্রিল ছিল পহেলা বৈশাখ। এর কয়েকদিন পরই রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী সমিতির ইফতার পার্টি। সমিতির সাধারণ কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, বেছে বেছে শিল্পীদের বৈশাখের উপহার দেওয়া হলেও তারা তা পাননি। অন্যদিকে ইফতার পার্টির দাওয়াত দেওয়া হয়েছে মোবাইলে এসএমএস দিয়ে, তাও কয়েকজন পাননি। এছাড়া শিল্পীদের সেভাবে খোঁজখবর নেয় না বর্তমান কমিটি।

এ নিয়ে একটু দেরিতে হলেও মুখ খুলেছেন সমিতির সভাপতি ও সমাজসেবক ইলিয়াস কাঞ্চন। সম্প্রতি তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিল্পী সমিতি কেন উপহার দেবে? আমি তো নতুন নয়, এর আগে সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। সে সময় এ ধরনের কোনো নিয়ম দেখিনি। মিশা-জায়েদরা এই রীতি চালু করেছে শুধু ভোটে জেতার উদ্দেশ্যে।’

ইলিয়াস কাঞ্চন পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘৫০০ শিল্পীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়া সমিতির পক্ষে সম্ভব নয়। এরকম কোনো নিয়মও নেই। কারও সমস্যা থাকলে তারা সমিতিতে এসে যোগাযোগ করে সমস্যার কথা বলবে। যার সমস্যা তাকেই বলতে হবে।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যে অভিযোগগুলো হাতেগোনা কয়েকজন শিল্পী করেছে, সেগুলো করা কি সমিতির কাজ?’ আগে যারা নেতৃত্বে ছিল, তারা সমিতির ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে বলে দাবি করেন অভিনেতা।

শিল্পী সমিতির কার্যক্রম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আমরা তিনটি মিটিং করেছি। তবে জায়েদ খান ছলনার আশ্রয় নেয়ার কারণে একটি মিটিং বৈধ নয়। কিন্তু নিপুণকে সঙ্গে নিয়ে করা বাকি দুটি মিটিং বৈধ। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনকে সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করছি। সবাই আমাদের সঙ্গে আছে। যা পূর্বে ছিল না। উভয়ই একে অন্যের সমিতি এড়িয়ে চলত। কিন্তু সেসব এখন আর নেই। শিগগিরই তৃতীয় মিটিংয়ে অংশ নিয়ে নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেয়া কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হলেও গত তিন মাসেও সমিতির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’খ্যাত এই নায়ক। এ কারণে সমিতির স্বার্থে কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এই অভিনেতা।

গত দুই মিটিংয়ে জায়েদ-মিশা প্যানেলের পাশ করা অনেকেরই মিটিংয়ে অংশ না নেওয়ার কথা জানা গেছে। তৃতীয় মিটিংয়েও অংশ না নিলে সে ব্যাপারে সমিতির অবস্থান কী থাকবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। অন্য প্যানেল থেকে যারা পাশ করেছেন তারা কেন আসেনি আমি বুঝতে পারছি না। তারা কেন একটি পোস্ট কেন্দ্রিক? যেখানে ইলিয়াস কাঞ্চন সভাপতি সেখানে তারা আসতে পারে, তাদের মতামত দিতে পারে। যারা পাশ করেছেন তাদের উদ্দেশ্য ছিল শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা।

প্রশ্ন রেখে অভিনেতা বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে নেতৃত্ব দিতে যারা দাঁড়িয়েছে ও পাস করেছে, তাদের উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য ছিল শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এখন যদি তারা (নির্বাচিত সদস্যরা) না আসেন, কাজ না করেন তাহলে দাঁড়ালেন কেন? সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে একটা সমাধান আসবে সেটার জন্য বসে থাকার কি আছে? কাজ হচ্ছে না এই যে, সময় চলে যাচ্ছে এটা তো ঠিক হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী তিন মিটিংয়ে কেউ অংশ না নিলে তার সদস্যপদ থাকে না। তারপরও কিছু শর্ত থাকে, কিছু ভদ্রতার বিষয় থাকে। পরবর্তী মিটিংয়ে না আসলে হয়ত তাদের চিঠি দেয়া হবে। উত্তর না দিলে কিংবা ব্যাখ্যা নিয়ে চতুর্থ মিটিংয়ে আলোচনা হবে। আলোচনায় কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেবে তার উপর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চলচ্চিত্রের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন জানিয়ে এ সময় তিনি উল্লেখ করে আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের সঙ্গে বসে এ ব্যাপারে মিটিং করেছি। নতুন সিনেমার প্রমোট করছি। যেটা আগে কল্পনাও করা যেত না। অনেক অনিয়মই আমরা নিয়মে আনার জন্য চেষ্টা করছি। এসব ব্যাপার অব্যাহত আছে।

জেনেছি, এবারের ঈদুল ফিতরের সিনেমা ভালো চলছে। দীর্ঘদিন পর দর্শকও প্রেক্ষাগৃহ মুখী হয়েছে। এটা আমাদের জন্য স্বস্তির খবর। চলচ্চিত্রের কথা ভেবে আমারও প্রডাকশনে হাত দিতে হবে। কথায় নয়, আমি কাজে বিশ্বাসী। অন্যেরে উপদেশ দেব নিজে কিছু করব না তা হয় না। আমি নিজেও শিগগিরই সিনেমা পরিচালনায় আসছি। বর্তমানে গল্প ঘষা-মাজার কাজ চলছে। এছাড়া গল্প পছন্দ হলে সিনেমায় কাজ শুরু করব। নিজে না করে অন্যকে বলব এটা নেতার কাজ না। যদিও আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা এটা করছে। তারা মানুষকে মুখে বলে নিজেরা করে না। -বললেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *