দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দাপটের সঙ্গে গান করছেন সংগীতশিল্পী মনির খান। ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪৩টি একক অ্যালবাম, তিন শতাধিক দ্বৈত ও মিশ্র অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে তার। চারশটিরও বেশি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও কয়েকশতাধিক একক মিউজিক ভিডিও রয়েছে ‘অঞ্জনা’ খ্যাত এই শিল্পীর। সংগীতের এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেক পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে ঈদ, বিশ্ব শ্রমিক দিবস, ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন মনির খান।
✪ ঈদ কোথায় করবেন?
ঈদ গ্রামের বাড়ি করব। ওখানে আমার মা আছে। এবার আমরা সব ভাই-বোন একত্র হচ্ছি। সময় সুযোগ হলে ঈদ ছাড়াও গ্রামের বাড়ি যাই। পরিবারকে সময় দেই। গ্রামের আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ খবর নেই।
✪ ছোট বেলার ঈদ সম্পর্কে বলবেন?
ছোট বেলার ঈদের আনন্দ আর এই বয়সের ঈদের আনন্দ আলাদা। ছোট বেলায় ঈদের সময় সবার কাছে যেতাম, সালাম করতাম, সালামি পেতাম। ভালো লাগতো। আর এখন তো আমাকে ছোটরা সালাম করে, তাদের সালামি দিতে হয়। সময় ও বয়সের কারণে, বাস্তবতার আলোকে এক সময় সালামি নিয়েছি আর এখন সালামি দিচ্ছি। ছোট বেলায় সবার স্নেহ-ভালোবাসায় ছিলাম। এখন নিজে ছোটদের স্নেহ করি, আদর করি।
✪ তারকা হওয়ার আগে ও পরে ঈদের বিষয়ে জানতে চাই…
সেই সময় স্বাভাবিক একটি জীবন কেটেছে। জীবনের প্রকৃত অর্থও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। সবকিছুই বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লাগে। এখন অনেক কিছুই ভাবতে হয়। একটা অর্জন মানুষকে অনেক দায়বদ্ধ করে তোলে। সে ক্ষেত্রে তখন ছিল আমার অর্জনের সময়। অর্জনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করেছি। আর এখন মহান আল্লাহ যতটুকু অর্জন করার ক্ষমতা দিয়েছে তা ধরে রেখে আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করি। আগে ঈদে বন্ধুদের সঙ্গে মিশেছি, হই হুল্লোড় করেছি। তখন মানুষের কাছে জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে ছিলাম না; সাধারণ হিসেবে ছিলাম। কিন্তু যখন মনির খান হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিতি পেলাম, মানুষের পছন্দের মানুষ হিসেবে হৃদয়ে জায়গা পেলাম, তখন কিছু মানুষ তো চাইবেই তার ভালো লাগার মানুষের পাশে দাঁড়াবে। একটু কথা বলবে, জড়িয়ে ধরবে, তা ফ্রেমবন্দি করবে। এটা আমি উপভোগ করি।
✪ গ্রামে যাওয়ার পর অনেক মানুষ আপনাকে দেখতে আসে…
আমাকে দেখার জন্য অনেক মানুষ আসে বাড়িতে। এর জন্য আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। আমি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছি। প্রতিবারই গ্রামে যাই। আর আমাদের দেশে কোটি কোটি মানুষ। তার মধ্যে আমার প্রতি মানুষের ভালোবাসা, আমাকে তাদের ভালো লাগা, এটা আমার জন্য বিশাল কিছু। আমি গ্রামে যাওয়ার পর যারা দেখা করতে আসেন তাদের সঙ্গে কথা বলি, আড্ডা দেই। একটু চা চক্রের মাধ্যমে সময় কাটাই। নদীর পাড়ে ছোট একটি বাজার আছে, সেখানে বসে সবার সঙ্গে গল্প করি। এই জীবন ভীষণ ভালো লাগে আমার কাছে।
✪ প্রিয় খাবার কী?
আমি সবকিছু খেতে পছন্দ করি। আমার মধ্যে অতিরিক্ত কোনো চাহিদা নেই, এটা ভালো লাগে এটা তৈরি করতে হবে। আমি এমন না। আর আমি ঈদে একটা কাজ করি, নামাজ শেষে ঈদগাহ থেকে ফেরার সময় সব বন্ধুদের নিয়ে বাড়ি ফিরি। মা জানে, আমার ছেলে সবাইকে নিয়ে আসবে। মা ঈদের আগের দিন শোনে, ঈদের জামাত কয়টায়; আমি বলি। সেইভাবে মা সেমাই, পায়েস, লুচিসহ সব ধরনের খাবার রান্না করে। কিন্তু এখন আর মা সেই আগের মতো পারে না। বয়স হয়েছে তো। তবে আমার ভাবিরা আছে, তারা রান্না করেন। এছাড়া এর মধ্যে বাড়তি একটি হচ্ছে হকদানা। এটা হচ্ছে খিচুড়ির সঙ্গে মুরগির মাংস। আমাদের বাড়িতে বড় পাতিলে করে রান্না করা হয় এই খাবার। একটু লুচি-সেমাই খাওয়ার পর সবার সঙ্গে হকদানা খাই আমরা। আবার বন্ধুদের বাসায় যাই। দুপুর পর্যন্ত এভাবে ঘোরাঘুরি করি আমি।
