ঢাকা: ঈদ আসতে এখনও এক সপ্তাহ বাকি, ছুটিও শুরু হয়নি কিন্তু ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই মানুষ ছুটছে বাড়ির টানে।
দক্ষিণাঞ্চলের ‘প্রবেশদ্বার’ হিসেবে খ্যাত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় রোববার থেকেই বাড়তে শুরু করেছে; সৃষ্টি হয়েছে যানজটের।
সোমবার দিনভর সরজমিনে দেখা গেছে, যাত্রীদের পদ্মা পরাপারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদ আর গরমের মধ্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফেরিতে উঠার জন্য। ফেরি না পেয়ে কেউ কেউ লঞ্চ বা স্পিডবোটে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন। ফেরি সঙ্কট, ঘাটে উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার অভিযোগও করেছেন তারা।
আরিফুল ইসলাম জানান, গ্রামে স্বজনরা আছেন, তাদের সঙ্গে আনন্দ করে ঈদ উদযাপন করবো, তাই গ্রামে যাচ্ছি। প্রতিবছর ফেরিতে আমাদের চরম ভোগান্তি হয়। গত বছরতো বাঁচবো না মরবো সেই নিশ্চয়তা ছিলো না। আমরা যে ফেরিতে গেছি সেই ফেরির কয়েকজন মারা গেছে। বাসার সবাই কান্নাকাটি শুরু করেছিল।
এবার এজন্য আগেই চলে যাচ্ছি। শুনলাম ফেরি সীমিত। মাত্র ৬-৭টি চলছে। তাই স্ত্রী যেন দুর্ভোগে না পড়ে সেজন্য আগেই ওকে নিয়ে রওনা দিলাম।
এদিকে মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে বাড়ি ফেরা মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
রেলওয়ে স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে ২৩ এপ্রিল। যেসব ট্রেন আগামীকাল বুধবার (২৭ এপ্রিল) থেকে যাতায়াত শুরু করবে। সে হিসেবে পুরোদমে ঈদযাত্রা শুরু হবে। তবে আজও বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় রয়েছে।
এদিকে যাত্রীরা জানান, ঈদ কেন্দ্রিক পুরোদমে ভিড় শুরু হওয়ার আগেই যাদের সুযোগ আছে তারা ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। প্রথমদিকে ঢাকা ছাড়ার মানুষের মধ্যে বেশিরভাগই নারী-শিশু ও শিক্ষার্থীরা রয়েছেন। অনেকে অফিসের কারণে ঢাকায় থেকে গেলেও পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে দিচ্ছেন আগেই।
জামালপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী রকিব হাসান ইরান জানান, তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করেন। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় এবং ভিড় এড়াতে আগেই গ্রামের বাড়ি জামালপুরে রওনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে ট্রেনে অনেক ভিড় হবে। সেটা ভেবেই ২২ তারিখ অনেক চেষ্টা করে অনলাইনে আজকের টিকিট কাটতে পেরেছি। আজ মোটামোটি রিলক্সেই চলে যেতে পারবো।
এদিকে ঈদুল ফিতর পরিবারের সাথে উদযাপন করতে বাড়ি যাওয়া মানুষের ভিড় ছিলো গাবতলীতেও।
গাবতলী বাস টার্মিনালে খুলনাগামী আসাদুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, গত দুই বছর পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে না পারায় এবার আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছি। এ বছর করোনা মহামারি না থাকায় আমরা পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারবো। গত দুইটি বছর আমরা এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতার স্বীকার হয়েছি। এ বছর অবশ্য স্বস্তি ফিরেছে।
তিনি বলেন, রাজধানীজুড়ে শুধুই যানজট। আমার আজিমপুর থেকে এখানে আসতে লেগেছে প্রায় ২ ঘণ্টা। ঈদের ছুটি না দিতেই শহরে যে পরিমাণ যানজট, ছুটি পড়ার সাথে সাথে এর তীব্রতা আরো প্রকট হবে।
এদিকে, ঢাকা থেকে বরিশালগামী আরিফুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, এর আগে সবশেষ ঈদে গ্রামে যাওয়ার সময় যানজটের কবলে পড়ে বাড়ি পৌঁছেছি ঈদের দিন সকালে। তাই এবার আগেই বাড়ি চলে যাচ্ছি৷ এবার আর কোন রিস্ক নিতে চাই না।
আরেক যাত্রী বলেন, ঈদ আসলেই ঢাকা শহর নানান অব্যবস্থাপনায় নিমজ্জিত হয়। অতিরিক্ত ভাড়া, সিট না পাওয়া, যানজটসহ বিভিন্ন কারণে ঘরমুখো মানুষদের ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, অনন্ত এই সময়ে মানুষ যেন দুর্ভোগের স্বীকার না হয়। সবাই যেন ঠিক সময়ে বাড়ি পৌঁছাতে পারে এবং পরিবারে সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে।
কল্যাণপুরে হানিফ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার রাকিন হোসেন বলেন, এবারের ঈদের বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ বেশি। ২০ তারিখের পর থেকে মানুষের চাপ বেশি। অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, তবুও যাত্রীদের চাহিদা শেষ হচ্ছে না। সরকারি ছুটি তো এখনও শুরু হয়নি। এবারের ঈদ যাত্রায় গাড়ি সংকটে পড়তে পারে।
