ঢাকার যানজট অসহনীয় পর্যায়ে গেলেও তা নিরসনে কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নেতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে এই অভিযোগ করেন তিনি।
সড়ক নিরাপদ করার দাবিতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, যানজট নিরসনে কাউকে না কাউকে উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু ঢাকার ক্ষেত্রে কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না।
নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি চিন্তা করছিলাম এখানে এসে আমি গাড়িটা রাখবো কোথায়। আপনাদের এখানে কি পার্কিংয়ের সুবিধা আছে।
ইলিয়াস কাঞ্চন দাবি করে বলেন, মন্ত্রী সাহেব যে গাড়ি রেখে এসেছেন, তিনি কি পার্কিংয়ে রেখে এসেছেন? মন্ত্রী সাহেব তো রাস্তার ওপর গাড়ি রেখে এখানে চলে এসেছেন।
তিনি বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্য আমি শুনছিলাম। তিনি বলছিলেন, করতে হবে? কিন্তু কে করবে? আমাদেরও দায়িত্ব আমরা পালন করছি না। আমরা শুধু বলে যাচ্ছি করতে হবে। কিন্তু আমরা কেউ দায়িত্ব নিচ্ছি না।
ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, এই যে আপনারা বললেন সকলে মিলে করতে হবে, এখন একটা জিনিস আমরা করতে পারি। সেটি হলো আপনারা পুলিশ দিয়ে রাস্তার উল্টাপাশে দিয়ে চলে যেতে পারেন। আমরা এটা বন্ধ করে দিব, নিজেদের গাড়ি নিয়ে রাস্তার মধ্যে ২-৩ দিন বসে থাকবো। উনারা যখন যেতে পারবে না তখন সমাধান হবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আপনারা শুধু বলেন-১৩ বছর ধরে আছেন। ১৩ বছর ধরে তো আমরা শুধু ধুলাবালি, এয়ারপোর্ট রোডের ওপর পাঁচ বছর ধরে একটা পিলার ফেলে রেখে দিয়েছেন। কেন পিলার ফেলে রেখেছেন এতদিন ধরে। কাজটি তো প্রপারলি করতে হবে।
তিনি বলেন, একটা দেশের উদাহরণ দিতে পারবেন। যে একটা প্রকল্প পাঁচ বছরের শেষ করবেন। কিন্তু কন্টাকটার শেষ করবে না, ইঞ্জিনিয়ার শেষ করবে না, কিন্তু তাকে উল্টা আবার টাকা দেবেন। এমন পৃথিবীর কোথায় আছে? শুধু লন্ডনের উদাহরণ দিলে হবে না। লন্ডনের তো রাস্তার ওপরে এভাবে গাড়ি রেখে দেয় না।
তিনি আরও বলেন, মেয়র সাহেবের যে বাস রেশনালাইজেশন, সেটা কি হয়েছে? তাহলে কেমনে হবে এই যানজটের সমাধান।
তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ কমিশনার বলেছেন। এবং সেখানে যানজট নিরসন করেছেন তিনি। চেষ্টা থাকতে হবে। সেখানে তারা ফুটপাত থেকে দোকানপাট উঠিয়েছেন।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এখনো আমাদের যে রাস্তা, গাড়ি ও মানুষ আছে, সেটা সুচারুরূপে ব্যবস্থাপনা করা গেলে আমরা স্বস্তির সঙ্গে চলাচল করতে পারব।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল রাজধানীর যানজটের জন্য সড়ক দখল করে দোকান বসানো এবং গাড়ি রাখাকে দায়ী করেন। এগুলো বন্ধে পুলিশকে কঠোর হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
“অধিকাংশ জায়গায় দেখা যায়, রাস্তা দখল করে দোকান-পাট বসানো হয়েছে। আবার রাস্তার উপরে যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। যা ট্রাফিক জ্যামের অন্যতম কারণ। যারা রাস্তার উপরে গাড়ি রাখবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার পাশাপাশি যানজটও বাড়বে, সেজন্য এখন থেকে পরিকল্পনা করতে হবে।
“এই ১৩ বছরে উন্নতির অনেকগুলো কারণেই ট্রাফিক সিস্টেমটা… ট্রাফিক প্রবলেমটা আমাদের কাছে একটা হেডেক হয়ে গেছে। ট্রাফিক সমস্যা নাই,পৃখিবীতে এমন কোনো জায়গা নাই। আমরা যে পরিস্থিতিতে আছি, তা মাথায় নিয়ে সে বিবেচনায় সমাধানের চিন্তা করতে হবে।”
